ইরানের রণতরী থেকে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের এক মাসের জন্য বিনামূল্যে ভিসা দেবে শ্রীলঙ্কা। রবিবার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে তারা। কলম্বো জানিয়েছে, তারা কোনও দেশের পক্ষ নিচ্ছে না। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মানবিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী আনন্দ উইজেপালা বলেন, ওই ইরানি নাবিকদের এক মাসের জন্য বিনামূল্যে ভিসা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এই ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি। উইজেপালা আরও বলেন, “আমরা কোনও পক্ষ নেব না। আন্তর্জাতিক আইনের প্রেক্ষিতে মানবিক পথে কাজ চালিয়ে যাব।” বস্তুত, ওই ইরানি নৌসেনার নাবিকদের দেশ ফেরত পাঠানোর বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি কলম্বো।
শনিবারই রয়টার্স দাবি করে, উদ্ধার হওয়া ওই নাবিকদের ইরানে না-ফেরানোর জন্য শ্রীলঙ্কা সরকারকে চাপ দিচ্ছে আমেরিকা। এই সংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন বিদেশ দফতরের অভ্যন্তরীণ একটি নথি তারা হাতে পেয়েছে বলেও দাবি রয়টার্সের। এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কা জানাল, ওই নাবিকদের এক মাসের জন্য বিনামূল্যে ভিসা দিচ্ছে কলম্বো।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ইরানের এক রণতরীতে হামলা চালায় আমেরিকা। মার্কিন ডুবোজাহাজ থেকে টর্পেডো ছুড়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয় ইরানের যুদ্ধজাহাজকে। পিটিআই জানাচ্ছে, ভারতে আয়োজিত এক নৌসেনা মহড়ায় যোগ দিতে এসেছিল ইরানের রণতরীটি। সেখান থেকে ফেরার সময়েই ভারত মহাসাগরের বুকে হামলা হয় তাদের উপর। মার্কিন টর্পেডো হানায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ওই ইরানি রণতরী থেকে ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কা। উদ্ধারের পরে শ্রীলঙ্কার হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন তাঁরা। বর্তমানে ওই জখম ইরানি নাবিকদের মধ্যে ২২ জন হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে গিয়েছেন। ১০ জন এখনও চিকিৎসাধীন।
ওই ঘটনার পর পরই আরও এক ইরানি রণতরী থেকে নাবিকদের উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কা। ওই রণতরীটিতে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেখান থেকেও ১৮৬ জনকে উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ওই দুই রণতরী থেকে উদ্ধার হওয়া নাবিকেরাই ইরানে রয়েছেন।