নির্বাচনে জয়ের পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির সূত্রকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, রবিবার তিনি জামায়াত-এ-ইসলামী (জামাত নামে যা সমধিক পরিচিত) শীর্ষনেতা শফিকুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা করতে পারেন। তার পরে ন্যাশনাল সিটিজ়েন পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাড়িতেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। মনে করা হচ্ছে, শপথের আগে বিরোধীদের সহযোগিতা চাইতেই এই পদক্ষেপ করছেন বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি-র সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগকারী বিভাগের একটি সূত্র বলছে, রবিবার প্রথমে ঢাকায় জামাতের আমীর শফিকুরের বাড়িতে যাবেন তারেক। তার পরে তিনি যাবেন নাহিদের বাড়িতে। ওই দুই দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে স্থির করা হবে সময়। সূত্রের খবর, ভোটের পরে সৌজন্য বিনিময় করতেই এই সাক্ষাৎ করবেন তারেক। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে নতুন সংসদ সদস্যেরা শপথ নিতে পারেন। তার আগে বিরোধী দলের আসনে বসতে চলা জামাত এবং এনসিপির শীর্ষনেতার সঙ্গে তারেক সাক্ষাৎ করলে তা ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
-
তারেককে জয়ের অভিনন্দন, ইউনূসের বিবৃতিতে জামাত এবং এনসিপি-কেও ধন্যবাদ ‘দায়িত্বশীল ভূমিকা’-র জন্য
-
নতুন সরকারের শপথে মোদীকে আমন্ত্রণ! ডাক মোট ১৩ দেশের প্রধানকে, বিএনপি-র সঙ্গে কথা বলে তালিকা গড়লেন ইউনূস
-
‘হাসিনাকে কি ফেরানো হবে?’ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রশ্নে কী বললেন বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী
এর আগে শনিবার জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন বিএনপি প্রধান তারেক। নির্বাচনে তাঁর দলের জয় বাংলাদেশের মানুষকে উৎসর্গ করেন তিনি। তাই জনগণের জীবন সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। খালেদা জিয়ার পুত্র বুঝিয়ে দেন, এ বার বাংলাদেশকে মানবিক ভাবে গড়ার পালা। ঢাকার হোটেলে সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানান বিএনপি-প্রধান। তাঁর কথায়, ‘‘বহু প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করে আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছি।’’ তারেক মনে করেন, গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং বিরোধী দলগুলি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। তারেকের মতে, সকলের মত এবং পথ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু দেশের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি। বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’’
মনে করা হচ্ছে এ বার সেই ‘ঐক্যের বার্তা’ নিয়েই বিরোধী দলগুলির শীর্ষনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন তারেক। উদ্দেশ্য, সরকার চালানোর জন্য বিরোধী দলগুলির সহযোগিতা চাওয়া।