E-Paper

ট্রাম্পের ‘পাখির চোখ’ ইরানের ইউরেনিয়াম-ভান্ডার

একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়েছেন, তেহরান কিছুতেই নিজেদের কাছে পরমাণু বোমার উপাদান রাখতে পারবে না। ইরান যদি সমঝোতায় রাজি না হয় সে ক্ষেত্রে ছলে-বলে-কৌশলে হলেও তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৯
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এক দিকে শান্তির বার্তা, অন্য দিকে নজরে রাসায়নিক! গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে চলা সংঘর্ষ থামাতে আঞ্চলিক ভাবে শান্তি আলোচনা চলছে। আর এর মধ্যেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন, ইরানে স্থলসেনা নামাতে। লক্ষ্য, সে দেশের মাটি থেকে ৪০০ কেজি উৎকৃষ্ট ইউরেনিয়াম তুলে আনা। তাঁর বক্তব্য হল, ওই রাসায়নিক দিয়ে ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারে। তবে ট্রাম্পের পরামর্শ ইরান যদি নিজেই ওই রাসায়নিক আমেরিকার হাতে তুলে দেয়, তা হলে আরও ভাল। তাতে যুদ্ধও শেষ হয়ে যাবে। আমেরিকার এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে ইরান। এমনকি শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতা করার আবেদনও খারিজ করেদিয়েছে তারা।

একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়েছেন, তেহরান কিছুতেই নিজেদের কাছে পরমাণু বোমার উপাদান রাখতে পারবে না। ইরান যদি সমঝোতায় রাজি না হয় সে ক্ষেত্রে ছলে-বলে-কৌশলে হলেও তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে। এক দিকে যখন এমন হুমকি দিচ্ছেন ট্রাম্প, অন্য দিকে জানাচ্ছেন ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সরাসরি নয়, ঘুরপথে। পাকিস্তানি প্রতিনিধি মারফত ইরানর সঙ্গে কথা চালানোর চেষ্টা করছে আমেরিকা। মিশর ও তুরস্ক-ও মধ্যস্থতা করছে। তবে এখনও পর্যন্ত দু’দেশ মুখোমুখি বসেনি। গত কাল সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীদের নিয়ে ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছিলেন পাক বিদেশন্ত্রী ইশক দার। এর পরেই পাকিস্তান জানায়, তারা আমেরিকা-ইরান সরাসরি বৈঠকে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু সেই প্রস্তাব স্পষ্ট ভাবে খারিজ করে দিয়েছে ইরান। ভারতের মুম্বইয়ে ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘‘আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি কোনও কথা নয়। আমেরিকার কূটনীতি ক্রমাগত চেহারা বদলায়। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। পাকিস্তান কী করছে ওদের ব্যাপার, আমরা তাতে অংশ নিইনি। আঞ্চলিক ভাবে যে যুদ্ধ থামানোর প্রস্তাব উঠছে, তাতে স্বাগত জানাই। কিন্তু মনে রাখবেন, কে যুদ্ধ শুরু করেছিল!’’

ইরান যে আমেরিকার কূটনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তা একেবারেই অযৌক্তিক নয়। যুদ্ধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণ বলছেন। তবে তিনি একটি কথা বারবার বলছেন, ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারে না। সেটা বাস্তবায়িত করতে তিনি কত দূর যেতে পারেন, তা নিয়ে সাবধানী ভাবে মুখ খুলতে দেখা যাচ্ছে ট্রাম্পকে। গত কাল রাতে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ‘‘ইরান যদি আমেরিকার কথা না শোনে, তা হলে দেশটাই আর থাকবে না। ওরা ঠিক আমাদের হাতে পরমাণু গুঁড়ো (ইউরেনিয়াম) তুলে দেবে।’’ তবে ঠিক কী করতে চায় আমেরিকা, তা নিয়ে ভাঙছেন না তিনি। গত সপ্তাহে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আমেরিকান সেনা (এর মধ্যে ২৫০০ নৌসেনা) পশ্চিম এশিয়া পৌঁছেছে।

এ দিকে, আমেরিকা-ইজ়রায়েল ও ইরানের হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। ইজ়রায়েলের দু’টি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার কারখানায় এসে আঘাত করেছে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এই সংস্থাগুলি বয়ঃসন্ধি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য ওষুধ তৈরি করে। এ ছাড়া স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য ওষুধও তৈরি করে এরা। ও দিকে, রাষ্ট্রপুঞ্জের পরমাণু অস্ত্র বিষয় পর্যবেক্ষক সংগঠন আইএইএ জানিয়েছে, ইরানের খোনদাবে ভারী জল প্রস্তুতকারী কারখানাটি কাজ করছে না। গত ২৭ মার্চের ইজ়রায়েলি হামলায় সেটি ব্যাপক ভাবেক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

US-Israel vs Iran Iran Donald Trump US-Iran Conflict

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy