Advertisement
E-Paper

কেচ্ছা নিয়েই ব্যস্ত রইলেন হিলারি-ট্রাম্প

এক জন দিন কয়েক আগেই বলেছেন, ‘‘সুযোগ পেলেই মহিলাদের গায়ে হাত দিই। চুমু খেতেও ছাড়ি না।’’ আর এক জনের স্বামীর বিরুদ্ধে আনা যৌন হেনস্থার অভিযোগের তালিকাটা চমকে দেওয়ার মতো লম্বা।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০১৬ ০১:১৫
সেন্ট লুইয়ের বিতর্কসভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিন্টন। ছবি: এএফপি।

সেন্ট লুইয়ের বিতর্কসভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিন্টন। ছবি: এএফপি।

এক জন দিন কয়েক আগেই বলেছেন, ‘‘সুযোগ পেলেই মহিলাদের গায়ে হাত দিই। চুমু খেতেও ছাড়ি না।’’ আর এক জনের স্বামীর বিরুদ্ধে আনা যৌন হেনস্থার অভিযোগের তালিকাটা চমকে দেওয়ার মতো লম্বা।

প্রথম দিন সংযত ছিলেন দু’জনেই। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দিনের বিতর্কে দুই প্রার্থীই কেচ্ছা-কেলেঙ্কারির বেড়াজালে নিজেদের জড়িয়ে ফেললেন। ফলে আইএস মোকাবিলা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিযয়গুলো চলে গেল ব্যাকফুটে।

রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যে রবিবার স্টেপ আউট করেই খেলবেন, সেটা বিতর্কের আগেই মালুম হয়ে গিয়েছিল। সেন্ট লুইয়ের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দ্বিতীয় বিতর্কের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বিতর্কের দেড় ঘণ্টা আগে হঠাৎ চার জন মহিলার সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। এমন চার জন, যাঁরা ক্লিন্টন পরিবারের সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে যৌন হেনস্থার সূত্রে জড়িত। তাঁদের মধ্যে দু’জন বহু দিন আগেই প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন। তৃতীয় মহিলা জানান, বারো বছর বয়সে তিনি ধর্ষিতা হন, এবং সেই ধর্ষকের (ইনি অবশ্য বিল ক্লিন্টন নন) হয়ে লড়েছিলেন আইনজীবী হিলারি রডহ্যাম। চতুর্থ মহিলা নিজেই এক আইনজীবী। বিল ক্লিন্টনের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক যৌন হেনস্থার মামলায় অভিযোগকারিণীর পক্ষ নিয়ে সওয়াল করেছিলেন তিনি।

এই চার মহিলার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকারটি ফেসবুক লাইভ চ্যাটে সম্প্রচার করেন ট্রাম্প। চার জনের মুখেই এক কথা— ক্লিন্টন দম্পতি মুখে অনেক কথাই বলেন। কিন্তু আদতে তাঁদের মতো সুবিধাবাদী ও নারীবিদ্বেষী খুঁজে পাওয়া দায়। বিল ক্লিন্টন যে গর্ভনর বা প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীন তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন মহিলাকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন, সে অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু এ দিন ট্রাম্প বারবার একটা কথাই বোঝাতে চেয়েছেন— শুধু বিল নন, তাঁর সমস্ত গর্হিত কাজের সমান ভাগীদার হিলারি ক্লিন্টন নিজেও।

দ্বিতীয় বিতর্কের ধাঁচটা অন্য পাঁচটা বিতর্কের থেকে আলাদা ছিল। এ দিন দর্শকদের প্রশ্নের মোকাবিলা করতে হয়েছিল প্রার্থীদের। প্রথমেই তাঁর হালফিলের মন্তব্যের জন্য ট্রাম্পকে কোণঠাসা করেন দর্শকরা। দিন কয়েক আগেই একটি টেপ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে সত্তর বছর বয়সী ট্রাম্প এক বিবাহিতা মহিলা সম্পর্কে বলছেন, ‘‘ভাগ্যিস সব সময়ে মুখে মাউথ ফ্রেশনার রাখি। সে দিন ওই মহিলাকে জোরজবরদস্তি চুমু খাওয়ার সময়ে দিব্যি কাজে দিয়ে দিল।’’ এখানেই অবশ্য থামেননি রিপাবলিকান পদপ্রার্থী। বলেন, ‘‘আমি তো সুযোগ পেলেই মেয়েদের গায়ে হাত দিই।’’ মহিলাদের সম্পর্কে আরও নানা কুরুচিকর মন্তব্যও করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এই সব মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরে তাঁর বিরুদ্ধে ‘রে রে’ করে ওঠেন অনেকেই। ট্রাম্প-নিন্দায় মুখর হয়ে ওঠেন আর্নল্ড শোয়ার্ৎজেনেগারের মতো নানা হেভিওয়েট রিপাবলিকান সমর্থকও। ট্রাম্পের তৃতীয় তথা বর্তমান স্ত্রী, তাঁর থেকে ২৪ বছরের ছোট মেলানিয়া ট্রাম্পও এক বিবৃতি দিয়ে বলেন, স্বামীর এই মন্তব্যে তিনি মর্মাহত। ‘‘এমন কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য ডোনাল্ডের এখনই ক্ষমা চাওয়া উচিত,’’ বলেন তিনি।

ক্ষমা অবশ্য চাইলেন ট্রাম্প। সর্বসমক্ষেই। দ্বিতীয় বিতর্কে বললেন, ‘‘যে কথাবার্তাগুলো নিয়ে এত হইচই হচ্ছে সেগুলো নেহাতই রসিকতার ছলে বলা। তবু আমি ক্ষমা চাইছি। আমি চাই না, আমার কথাবার্তা কাউকে আঘাত করুক। আপনারা আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি মহিলাদের যথেষ্ট সম্মান করি।’’

ট্রাম্পের এই ক্ষমাপ্রার্থনাকে অবশ্য ‘লোকদেখানি’ বলেছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী। হিলারির কথায়, ‘‘উনি মহিলা, মুসলিম ও নানা ধনের মানুষ সম্পর্কে খারাপ কথা বলবেন। তারপর বলবেন, ‘রসিকতা করেছি।’ এ ধরনের এক জন মানুষের হাতে কী ভাবে দেশের দায়িত্ব তুলে দেওয়া যায়!’’

তবু বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রথম বিতর্কের থেকে অনেক ভাল ‘ফল’ করেছেন ডোনাল্ড। ভুল হয়তো তিনি করছেন। কিন্তু সে সব ভুলের জন্য যে ক্ষমাও চাইছেন, সেটাই প্রশংসনীয়। প্রথম বিতর্কে তাঁকে অনেক বেশি জড়োসড়ো লেগেছিল। বাগ্মী বলে যে খ্যাতি তাঁর ছিল, তাতে অনেকটাই ছাই চাপা পড়ে গিয়েছিল। এ বার কিন্তু তেড়েফুঁড়ে উঠেছেন ডোনাল্ড। ফলে সাদা বাড়ির দৌড় থেকে আপাতত বাদ দিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

এ দিনের বিতর্কে অবশ্য ট্রাম্প কার্ডটা খেলেন এক দর্শকই। প্রার্থী ষুগলকে অনুরোধ করেন, ‘‘এত দিন তো আপনারা পরস্পরের বিরুদ্ধে শুধু খারাপ কথাই বলেছেন। আজ একটা প্রশংসাসূচক কিছু বলুন।’’ ঈষৎ থতমত খেয়ে যান দু’জনেই। তারপর হিলারি বলেন, ‘‘ডোনাল্ডের ছেলেমেয়েদের আমি খুব পছন্দ করি। বোঝাই যায়, ওদের মানুষ করার ব্যাপারে ডোনাল্ড যথেষ্ট সফল।’’ আর ট্রাম্প বলেন, ‘‘হিলারির লড়াকু মনোভাবকে কুর্নিশ করি। ওঁর ভাবাদর্শে হয়তো আমার বিশ্বাস নেই। কিন্তু ও যে কিছুতেই হাল ছাড়ে না, এটা খুব ভাল লাগে।’’

second presidential debate donald trump hillary clinton
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy