হরমুজ় প্রণালী নিয়ে অচলাবস্থা কিছুতেই কাটছে না। ইরান হুঁশিয়ারির পর হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে, হরমুজ় তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। সে ক্ষেত্রে ইরানের কয়েকটি ‘বন্ধু দেশ’ ছাড়া বাকি দেশগুলির তেল এবং জ্বালানিবাহী জাহাজ এই প্রণালীতেই আটকে রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই অবরুদ্ধ হরমুজ় প্রণালী। এ বার এই প্রণালী ইরানের ‘দখলমুক্ত’ করতে পশ্চিমের দেশগুলির বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ইকোনমিক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা এবং সহযোগী দেশগুলির কাছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি আগ্রহ প্রকাশ করেছে যে, হরমুজ়ের অচলাবস্থা কাটাতে এ বার তারাও অভিযানে নামতে চায়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রশাসনের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিজেদের নৌসেনা নামানোর কথাও জানিয়েছে আবু ধাবি। ওই সূত্রের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার কোনও পরিকল্পনা নেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। তবে হরমুজ় নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে পশ্চিমের দেশগুলিকে সহযোগিতা করতে চাইছে তারা।
হরমুজ় অবরুদ্ধ করে রাখায় ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে বলে ওই সূত্রের দাবি। হরমুজ়ের পথ মসৃণ করতে গেলে যে সকলের একত্রিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে। বুধবারই হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কী ভাবে হরমুজ় প্রণালীকে ‘দখলমুক্ত’ করা যায়। প্রসঙ্গত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে অত্যাধুনিক নৌবাহিনী রয়েছে। সূত্রের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি চাইছে ‘হরমুজ় সিকিউরিটি ফোর্স’ গড়ে তোলা হোক। আর সেই বাহিনী গড়ে তুলতে পশ্চিমের দেশগুলির কাছে আর্জি জানিয়েছে তারা। ইতিমধ্যেই আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে একদফা আলোচনা সেরে ফেলেছে তারা। উপসাগরীয় পাঁচটি দেশের মধ্যে এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। এ ছাড়াও বাহরিনও ইরানের হামলার নিন্দা করেছে। যে ভাবে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে ইরান হামলা চালাচ্ছে, সেই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পশ্চিমি দেশগুলির পাশে দাঁড়িয়েছে তারা।
তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাকি দেশগুলিও ইরানের এই হামলায় সন্ত্রস্ত। তারা চাইছে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি যেন দীর্ঘায়িত না হয়। শুধু তা-ই নয়, তারা এটাও চাইছে যে, তাদের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো বন্ধ করুক আমেরিকা। ওই সূত্রের দাবি, ওই দেশগুলির এই ধরনের চিন্তাভাবনা করলেও, সেই বার্তা কী ভাবে উপস্থাপিত করা হবে আমেরিকার কাছে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সকলে কি একযোগে এই বার্তা পৌঁছে দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
২৩:৩৮
এ বার থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’! হরমুজ় প্রণালীর নামটাই বদলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, সংশোধিত মানচিত্র প্রকাশ -
২১:১৪
পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ় প্রণালী সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব তেহরানের, বললেন মোজতবা খামেনেই -
১৮:১৯
‘ঝড় আসছে, যা আসছে কেউ ঠেকাতে পারবে না’! নিজের এআই ছবি দিয়ে ‘রহস্যময়’ বার্তা দিলেন ট্রাম্প -
ইরান যদি সমঝোতায় রাজি না হয়, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে আমেরিকার? জানিয়ে দিলেন মার্কিন বিদেশসচিব রুবিয়ো
-
ইরানের তিন দফা প্রস্তাব না-ও মানতে পারে ট্রাম্পের প্রশাসন! শান্তি আলোচনার পথের কাঁটা কি সেই পারমাণবিক কর্মকাণ্ডই?