সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে আছড়ে পড়া ড্রোন ইরান থেকে ছোড়া হয়নি। এ বার এমনটাই দাবি করল ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। তাদের দাবি, যে ড্রোন দিয়ে হামলা হয়েছিল সেটি শাহেদ ড্রোনের মতোই দেখতে। তবে সেটি ইরান থেকে ছোড়া হয়নি।
সোমবার সাইপ্রাসের আক্রোতিরিতে ব্রিটিশ বায়ুসেনার ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়। দু’টি ড্রোন দিয়ে হামলা হয়। তার মধ্যে একটি আছড়ে পড়ার আগেই ধ্বংস করে দেয় ব্রিটিশ বাহিনী। অন্যটি আছড়ে পড়ে রানওয়েতে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে এই হামলায় প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছিল ইরানই হামলা চালিয়েছে। কারণ, শাহেদ ড্রোন তৈরি করে ইরানই। কিন্তু এ বার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানাল, ওই ড্রোনটি ইরান থেকে ছোড়াই হয়নি। তবে কোথা থেকে ড্রোনটি ছোড়া হয়েছিল, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি ব্রিটেন।
ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ওই হামলার ঠিক আগের দিনই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। তিনি দাবি করেন, ইরানে প্রথম হামলার সময়ে ব্রিটেন জড়িত ছিল না। পরবর্তী সময়ে শুধুমাত্র আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ করছে ব্রিটিশ বাহিনী। ইরাক-যুদ্ধের ‘ভুল’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা ইচ্ছা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্রিটেন জড়িত থাকবে না। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই এই অঞ্চল (পশ্চিম এশিয়া) এবং গোটা বিশ্বের জন্য ভাল।”
আরও পড়ুন:
মার্কিন সেনাকেও শুধুমাত্র আত্মরক্ষামূলক উদ্দেশ্যেই কয়েকটি ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও ওই দিন জানান স্টার্মারের। ঘটনাচক্রে, ঠিক তার পরের দিনই সাইপ্রাসে ব্রিটিশ বায়ুসেনার ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়। ১৯৮৬ সালের পর থেকে এই প্রথম সাইপ্রাসে কোনও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চলল।
বস্তুত, যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। কিন্তু সোমবারের হামলার পর পরই ব্রিটেন জানিয়ে দেয়, সাইপ্রাসের ওই ঘাঁটিটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি মার্কিন বাহিনীকে। এ বার তারা জানাল, ওই ড্রোন ইরান থেকেও ছোড়া হয়নি। ফলে কে বা কারা হামলা চালাল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘চুক্তি পছন্দ না হলে ইরানে ফের বোমা ফেলব’, যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের দু’দিন আগে জি৭ শীর্ষবৈঠকে নয়া সুর ট্রাম্পের
-
আলো নিবিয়ে, ট্র্যাকার বন্ধ করে হরমুজ় অতিক্রম! ইরানি কায়দাতেই তেহরানের কোটি কোটি ব্যারেল তেল লুট করেছে আমেরিকা?
-
লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল, মৃত অন্তত চার! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিই কি সার? শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
-
শুরুতেই ভিন্ন সুর ইজ়রায়েলের, পরমাণু প্রকল্প, হরমুজ় ঘিরেও ধোঁয়াশা! স্বস্তির চেয়ে চ্যালেঞ্জই বেশি ট্রাম্প-ইরান শান্তিচুক্তিতে
-
সুবিধাবাদী নীতিতে সাপ-ব্যাঙ দু’পক্ষকেই ‘চুমু’ খেয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ! ‘আম-ছালা’ দুই-ই হারিয়ে এখন কাঁদছে ধনকুবের আরব রাষ্ট্র