ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর কাজে সন্তুষ্ট আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার সামরিক বাহিনীকে ১০-এর মধ্যে ১৫ দিয়ে দিলেন তিনি! ট্রাম্পের দাবি, তিনি যতটা আশা করেছিলেন, তার চেয়েও ভাল কাজ করছে মার্কিন বাহিনী।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেন, “এক কথায় বলতে গেলে, যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা খুব ভাল কাজ করছি। কেউ কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করছেন, ওদের আমি ১০-এর মধ্যে কত দেব? আমি বলেছি, প্রায় ১৫।” বুধবার বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক আলোচনাসভায় বসেছিলেন ট্রাম্প। সেখানেই আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ নিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল একসঙ্গে ইরানে হামলা করে। তার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধ। ট্রাম্পের দাবি, এই এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্রুত সাফল্যের দিকে এগিয়েছে মার্কিন সামরিক অভিযান। আপাতত এই সংঘর্ষ আমেরিকা এবং তার বন্ধুরাষ্ট্রগুলিই এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গত কয়েক দিনে আমেরিকার সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ বেশ কয়েক জন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকাই এখন এই সংঘর্ষ ‘নিয়ন্ত্রণ’ করার জায়গায় রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এখন খুবই ভাল জায়গায় রয়েছি। ওদের (ইরানের) নেতৃত্ব দেওয়ার লোক খুব তাড়াতাড়ি হারিয়ে যাচ্ছে। যিনি নেতৃত্ব দিতে চাইছেন, তিনিই শেষে মারা যাচ্ছেন।”
যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার বন্ধু দেশগুলিতে ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। গত কয়েক দিনে শ’য়ে শ’য়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে তেহরান। ড্রোন ছুড়েছে ১০০০টিরও বেশি। ইরানের কাছে আরও কত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার দ্রুত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে না পারে, সেই জন্যই এই হামলা চালিয়েছে তারা। তিনি বলেন, “যখন উন্মাদদের হাতে পরমাণু অস্ত্র চলে যায়, তখন খুব খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়।” ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা থেকে আটকানোর জন্য এই হামলা করা দরকার ছিল— এটাই বোঝাতে চান ট্রাম্প। এই সামরিক অভিযান যে এখনও জারি থাকবে, তা-ও বুঝিয়ে দেন তিনি।
ঘটনাচক্রে, বুধবারই (ভারতীয় সময়ে বৃহস্পতিবার ভোরে) ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটাভুটি হয় মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ সেনেটে। মার্কিন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প একক ভাবে এই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। ট্রাম্পের সামরিক নীতির বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পেশ হয় সেনেটে। তবে সেখানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ‘ছাড়পত্র’ পেয়ে যান ট্রাম্প। ট্রাম্পের সমর্থনে ভোট পড়ে ৪৭টি। বিপক্ষে পড়ে ৫৩টি ভোট।