নতুন বছরের গোড়াতেই রুশ-ইউক্রেন সংঘাত বৃদ্ধির ইঙ্গিত। বর্ষবরণের রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে কোনও ‘দুর্বল’ শান্তিচুক্তি করবেন না তাঁরা। দীর্ঘ দিন ধরে যুদ্ধের কারণে ক্লান্তি এলেও ইউক্রেন আত্মসমর্পণ করার পথে হাঁটবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বুধবার মধ্যরাতে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহর কিছু দিনের জন্য দখল করে নিয়েছিল। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ তার বেশি দিন ধরে চলছে বলে জানান তিনি। জ়েলেনস্কি বলেন, “ইউক্রেন কী চায়? শান্তি? হ্যাঁ। কিন্তু সেটি কি যে কোনও মূল্যে? না।” প্রশ্নোত্তরের ঢঙে জ়েলেনস্কি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা যে কোনও শর্তে রাশিয়ার সঙ্গে সন্ধি চান না।
এখানেই থামেননি জ়েলেনস্কি। ফের নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি বলেছেন, “আমরা কি ক্লান্ত? খুবই। তার মানে আমরা কি আত্মসমর্পণ করার জন্য প্রস্তুত? যদি কেউ এমনটা ভেবে থাকে, তা হলে খুবই ভুল করছে।” ঘটনাচক্রে, সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন যে, যুদ্ধ চলবে এবং রাশিয়াই বিজয়ী হবে। যে ভাবে দুই রাষ্ট্রপ্রধান একে অপরের বিরুদ্ধে তাল ঠুকছেন, তাতে এখনই যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
চলতি সপ্তাহেই আমেরিকার ফ্লরিডায় রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের জট কাটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন জ়েলেনস্কি। বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, যুদ্ধের মূল দুই জটের মধ্যে একটি কেটেছে। তবে কিছুটা সতর্ক ছিলেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষের সমঝোতার চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁরা পৌঁছে গিয়েছেন। শেষ ধাপের আলোচনা চলছে। তবে এখনই শান্তিচুক্তির জন্য কোনও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যাচ্ছে না। শীঘ্রই যুদ্ধ থামবে বলে আশাপ্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
রাশিয়া এবং ইউক্রেনের বিরোধের প্রধান দুই কারণ ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ডনবাস অঞ্চলের আধিপত্য। এই দুই নিয়েই সংঘাত চলছে দু’পক্ষের মধ্যে। ডনবাস অঞ্চলের দখলদারি নিয়ে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সংঘাত অনেক পুরনো। ওই অঞ্চল ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে থাকলেও তা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে মস্কো। যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে তাদের অন্যতম শর্ত এই ডনবাস থেকে জ়েলেনস্কির সেনা প্রত্যাখ্যান। এখনও এই বিষয়ে জট কাটেনি। এই আবহে মস্কো দাবি করেছে, পুতিনের বাসভবনে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে ইউক্রেন। ‘হামলার চেষ্টার’ ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এনেছে তারা। ইউক্রেনের পাল্টা দাবি, তাদের সরকারি ভবনগুলিতে হামলা করার ‘অজুহাত’ খুঁজছে মস্কো। তাই এই ধরনের অভিযোগ করে মস্কো একটি পটভূমি তৈরি করে রাখছে বলে অভিযোগ জ়েলেনস্কিদের।