Advertisement
E-Paper

বিদায়ী ভাষণেও ফের উত্তর-পূর্ব ভারতের কথা টানলেন ইউনূস! বাংলাদেশের অর্থনীতি বোঝাতে জুড়লেন ‘সেভেন সিস্টার্স’-কে

উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যকে নিয়ে ইউনূসের মন্তব্যের জেরে অতীতেও বিতর্ক হয়েছে। কখনও ঢাকায় বসে, কখনও আবার চিন সফরে গিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন তিনি। এ বার বিদায়ী ভাষণেও উত্তর-পূর্ব ভারতের কথা টানলেন ইউনূস।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৬
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। —ফাইল চিত্র।

অতীতেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তা নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। বিদায়বেলাতেও সেই বিতর্ক জিইয়ে রাখলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। বিদায়ী ভাষণে ফের উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে মন্তব্য করলেন ইউনূস।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে উত্তরপূর্ব ভারতের সাত রাজ্যের (সেভেন সিস্টার্স) কথা টেনে আনেন ইউনূস। বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের খোলা সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়— এটি বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার খোলা দরজা। নেপাল, ভুটান এবং সেভেন সিস্টার্সকে নিয়ে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।’’

উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে ইউনূসের মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর সূত্রপাত হয় গত বছরের মার্চে। ওই সময়ে চিন সফরে গিয়ে নিজের দেশে চিনা বিনিয়োগ টানতে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন তিনি। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি করার জন্য চিনকে অনুরোধ করেন ইউনূস। সেই সূত্রে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টায় তিনি বলেন, ‘‘সমুদ্রের (বঙ্গোপসাগর) একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ।’’

Advertisement

চিন এবং বাংলাদেশ লাগোয়া উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন যে, ‘‘ভারতের পূর্ব দিকের সাত রাজ্যকে বলা হয় সাত বোন। এগুলি স্থলভাগ দিয়ে ঘেরা। এদের সমুদ্রে পৌঁছোনোর কোনও পথ নেই।’’ ভৌগোলিক এই অবস্থানের কারণে বঙ্গোপসাগরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত করার যে ‘বড় সুযোগ’ চিন পাবে, তা স্পষ্ট করেন ইউনূস। নিজের দেশে চিনা বিনিয়োগ আনতে ইউনূস কেন ভারতের প্রসঙ্গ তুলে আনলেন, তা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল সেই সময়ে। উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসমের বিজেপিশাসিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও ওই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছিলেন।

ইউনূসের ওই মন্তব্য নিয়ে ভারত সরকার প্রকাশ্যে কোনও বিবৃতি দেয়নি। তবে ইউনূসের ওই মন্তব্যের পর পরই তাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখোমুখি হয়েছিলেন ইউনূস। পরে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জানায়, ওই পার্শ্ববৈঠকে ঢাকাকে ‘বাক্‌সংযম’-এরও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইউনূসকে তিনি জানিয়েছেন, ‘পরিবেশ কলুষিত করতে পারে এমন কথা’ এড়িয়ে যাওয়া উচিত। যদিও কী প্রসঙ্গে এই পরামর্শ ছিল, তা স্পষ্ট ছিল না সেই সময়ে।

কিন্তু এই বিতর্কের পরেও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রসঙ্গ টানা থামাননি ইউনূস। গত বছরের মে মাসে নেপালের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার ইন্দিরা রানা বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন। ওই সময়েও বৈঠকে ইউনূস বলেছিলেন, ‘‘বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের জন্য একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থাকা উচিত। আলাদা ভাবে নয়, একসঙ্গে কাজ করলেই আমরা আরও বেশি লাভবান হতে পারব।’’ এ বার বিদায়ী ভাষণেও সেই উত্তর-পূর্ব ভারত প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেন তিনি।

Muhammad Yunus Bangladesh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy