পাকিস্তানের যে প্রতিনিধিদল আমেরিকায় গিয়েছে, তাদের সন্ত্রাসবাদ দমনের পরামর্শ দিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ব্র্যাড শেরম্যান। পাকিস্তানে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং তাদের পাকিস্তান থেকে সরিয়ে ফেলার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। শেরম্যান নিজেই সমাজমাধ্যমে এ কথা জানিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী বিলাবল ভুট্টো জ়ারদারিরও। পাক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন বিলাবল। শেরম্যানদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ছাড়াও তাঁদের আলোচনা হয়েছে ভারত-পাক সংঘাত, পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং গণতন্ত্রের পরিস্থিতি নিয়ে।
শেরম্যান সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘বিলাবল ভুট্টো, পাক রাষ্ট্রদূত এবং অন্য নেতাদের সঙ্গে দেখা হল। গত মাসের ভারত-পাক সংঘাত, পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সময়ে আমি সন্ত্রাসবাদ দমনে, বিশেষত জইশ-ই-মহম্মদকে দমনে জোর দিয়েছি। ওই গোষ্ঠীই ২০০২ সালে আমাদের ড্যানিয়েল পার্লকে হত্যা করেছিল। পার্লের পরিবার এখনও আমার জেলাতেই থাকে। এই জঘন্য গোষ্ঠীকে সরাতে এবং অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করতে পাকিস্তানের যা করণীয়, তা করা উচিত।’’
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা প্রসঙ্গে শেরম্যান লেখেন, ‘‘পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বসবাসকারী হিন্দু, খ্রিস্টান এবং অহমদিয়া মুসলিমরা যেন নিজেদের ধর্মাচরণের সুযোগ পান। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যোগ দেওয়ার সুযোগ পান নির্দ্বিধায়।’’ সিন্ধ প্রদেশের সমস্যাগুলিও পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন শেরম্যান। জানিয়েছেন, সিন্ধুর জলের উপর বহু পাকিস্তানি নির্ভরশীল। সেই জলের উৎসকে রক্ষা করা জরুরি। সিন্ধের মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক দমনপীড়নের শিকার। পাকিস্তানের মানবাধিকার সংগঠনই ২০১১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত আট হাজারের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। তার মধ্যে গুম করে ফেলা, বিচার ছাড়াই হত্যার মতো গুরুতর বিষয় রয়েছে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারকে নজর দিতে বলেছি।’’
আমেরিকায় গিয়ে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি এবং সে বিষয়ে ভারতের অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলেছে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল। বিলাবল দাবি করেন, জল বন্ধ করে দক্ষিণ এশিয়াকে পরমাণু যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ভারত। ভারতের এই কার্যকলাপ ‘আগ্রাসন’ বলেও অভিহিত করেন তিনি। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর পাকিস্তানকে দায়ী করে সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করে দিয়েছে ভারত। দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি হলেও চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসেনি। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, রাষ্ট্রপুঞ্জের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ দাবি করেছেন, সিন্ধু এবং তার উপনদীর জলের উপর ২৪ কোটি পাকিস্তানির জীবন নির্ভরশীল। তাই ভারতের এই সিদ্ধান্ত বেআইনি। আমেরিকায় গিয়েও সেই প্রসঙ্গ তোলে পাক প্রতিনিধিদল। প্রায় একই সময়ে ওয়াশিংটনে রয়েছে শশী তারুরের নেতৃত্বাধীন ভারতের সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলও। পহেলগাঁও হামলা, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কথা প্রচারের উদ্দেশে আমেরিকায় গিয়েছেন তাঁরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- সংঘর্ষবিরতিতে রাজি ভারত এবং পাকিস্তান। গত ১০ মে প্রথম এই বিষয় জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে দুই দেশের সরকারের তরফেও সংঘর্ষবিরতির কথা জানানো হয়।
- সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরেও ১০ মে রাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোলাবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তবে ১১ মে সকাল থেকে ভারত-পাক সীমান্তবর্তী এলাকার ছবি পাল্টেছে।
-
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিষয়, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না নয়াদিল্লি, জানিয়েছে আমেরিকা: পাক বিদেশমন্ত্রী
-
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুরন্ত লড়াই, অগ্নিবীরদের ভাগ্য খুলে যেতে পারে, ৪ বছরের মেয়াদ বাড়বে? কী পরিবর্তন হতে পারে? চর্চা
-
ভারতের হামলায় কি গুঁড়িয়ে গিয়েছে আমেরিকায় তৈরি পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬? এক বাক্যে জবাব মার্কিন বিদেশ দফতরের
-
৩ মাস ধরে পালানোর চেষ্টা, শেষে চিনা যন্ত্র চালু করতেই গোয়েন্দাদের জালে পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিরা
-
গোপন সুড়ঙ্গের মুখ কৌশলে বন্ধ করে ‘ফাঁদ’ পাতে সেনা? কেন তিন মাসেও কাশ্মীর ছাড়তে পারেনি পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিরা