ইরানের মিনাব শহরে মেয়েদের একটি স্কুলে বোমা ফেলা হয় গত শনিবার। তেহরানের দাবি, বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ১৫০ জনের, অধিকাংশই শিশু। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী শনিবার ইরান আক্রমণ করেছিল। কাদের হামলায় এই স্কুলে বোমা পড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংবাদসংস্থা রয়টার্স মার্কিন সরকারি সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, আমেরিকার তদন্তেই এ বিষয়ে আমেরিকার নাম উঠে আসছে। অর্থাৎ, আমেরিকাই বোমা ফেলেছে ইরানের স্কুলে। হোয়াইট হাউসের তরফে এখনও এ বিষয়ে মন্তব্য করা হয়নি। তবে পৃথক ভাবে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকা।
সূত্রের খবর, আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর (বর্তমানে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার) ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলার তদন্ত করছে। প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ বুধবার সেই খবর নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় হোয়াইট হাউসও কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের পর মনে হচ্ছে, আমেরিকার বোমাই পড়েছে স্কুলটির উপর। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। মার্কিন হামলার সপক্ষে কী প্রমাণ মিলেছে, কী দেখে তদন্তকারীরা এই ইঙ্গিত পেলেন, কী ধরনের অস্ত্র স্কুলটির বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়েছিল, এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শেষ হতে আর কত দিন লাগবে, তা-ও বোঝা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে আমেরিকার হামলা বলে মনে হলেও তদন্তের অগ্রগতিতে অন্য প্রমাণও মিলছে। অভিযোগের তির ঘুরে যেতে পারে অন্য কারও দিকে। সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত শেষ করার জন্য ঠিক কী ধরনের প্রমাণের অপেক্ষা করছেন মার্কিন তদন্তকারীরা, স্পষ্ট নয়। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ইরানের দূত আলি বাহরেইনি স্কুলে ১৫০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। মিনাবের ওই স্কুলপ্রাঙ্গণের কবরস্থানের ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা গিয়েছে, একসঙ্গে পর পর কবর খোঁড়া হয়েছে। ছোট শিশুদের জন্য কবরের আকারও ছোট। তাতে গোঁজা ইরানের পতাকা। এই ছবি সাড়া ফেলে দিয়েছে গোটা বিশ্বে।
আমেরিকার দাবি, তারা জেনেশুনে কখনও নিরীহ নাগরিকদের নিশানা করে না। হেগসেথও তেমনটাই জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘অবশ্যই আমরা কখনও অসামরিক নাগরিকদের উপর হামলা চালাই না। তবে এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’’ মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োও দাবি করেছেন, আমেরিকার বাহিনী ইচ্ছাকৃত ভাবে কখনও কোনও স্কুলে হামলা চালাবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
১৩:৩০
যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়বে! আমেরিকা ও ইরানের দ্বিতীয় বৈঠকের আগে দাবি মার্কিন বাহিনীর প্রাক্তন প্রধানের -
১৩:১৪
‘পালানোর চেষ্টা করলেই গুলি চলবে’! ইরান নৌবন্দরের কাছে জাহাজ দেখতে পেয়েই কপ্টার থেকে হুঁশিয়ারি মার্কিন সেনার -
ওমান প্রান্ত দিয়ে জাহাজ গেলেই তো মিটে যায় সমস্যা! তবু কোন সূত্রে হরমুজ়ে ‘অ্যাডভান্টেজ’ পায় ইরান? কোথায় আতঙ্ক?
-
চালাকির চেষ্টা করলেই ঝাঁপাব পুরো শক্তি দিয়ে, আমরা তৈরি! দ্বিতীয় বৈঠকের দিনক্ষণ নিয়ে সংশয়ের মধ্যেই তোপ ইরানের
-
‘আমেরিকা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে’, আবার হরমুজ় অবরোধের ঘোষণা ইরানের! নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা