Advertisement
E-Paper

কাতারের ঘাঁটিতে মার্কিন কর্মী কমানো শুরু হল! কোথায় হচ্ছে সামরিক তৎপরতা? ট্রাম্প কি এ বার ইরানে হানা দেবেন?

পশ্চিম এশিয়ায় অন্তত ১০টি দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সেখানে অন্তত ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে বৃহত্তম হল কাতারের আল উদেইদ। সেখানে অসামরিক কর্মী-সহ প্রায় ১০ হাজার মার্কিন রয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪১
US Moves trops at Qatar Base As Iran Tensions Rise

(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আয়াতোল্লা খামেনেই (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকাও অস্ত্র ধরবে কি না, সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এ নিয়ে জল্পনার এবং উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার সন্ধ্যায় পশ্চিম এশিয়ায় বৃহত্তম সেনা ঘাঁটি কাতারের আল উদেইদ থেকে কর্মী কমানোর পর্ব শুরু করেছে পেন্টাগন! বেশ কিছু কর্মীকে ওই বিমানঘাঁটি ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এবং আমেরিকার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর।

গত বছর জুন মাসে তেহরান-তেল আভিভ সংঘাতের সময় ইরানের তিন পরমাণুকেন্দ্র— ফোরডো, নাতান্‌জ় এবং ইসফাহানে বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা ফেলেছিল মার্কিন বি-২ যুদ্ধবিমান। ওই অভিযানের নাম ছিল "অপারেশন মিডনাইট হ্যামার। ঘটনাচক্রে, তার ঠিক আগেই কাতারের আল উদেইদ থেকে বেশ কিছু অসামরিক কর্মী এবং তাঁদের পরিবারকে সরানো হয়েছিল। এ বার উত্তেজনার আবহেই পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলার বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আল-খামেনেই।

পশ্চিম এশিয়ায় অন্তত ১০টি দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সেখান অন্তত ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার যে দেশগুলিতে আমেরিকার মূল ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলি হল— তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডন, ইজিপ্ট, সৌদি আর, কাতার, ইরাক, কুয়েত এবং বাহরিন। এই ১০টি দেশে সব মিলিয়ে আমেরিকার ১৯টি মূল সামরিক ঘাঁটি রয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। তার মধ্যে অন্যতম হল— কাতারের আল উদেইদ বায়ুসেনা ঘাঁটি, বাহরিনে নৌসেনা ঘাঁটি, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান, ইরাকের আল-আসাদ বায়ুসেনা ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আল-ধাফরাস এবং তুরস্কের ইনসারলিক। এ ছাড়াও সিরিয়া, ওমান, জর্ডনেও আমেরিকার কিছু ঘাঁটি রয়েছে।

ইরাকের বাগদাদ থেকে পশ্চিমে আল আসাদ বায়ুসেনা ঘাঁটিতেও বড় সংখ্যায় মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। সাম্প্রতিক কালে বেশ কয়েক বার এই ঘাঁটিতে হামলাও চালিয়েছে ইরান এবং তাদের সহযোগী বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনী। উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মত, আমেরিকা ইরানে হামলা চালালে তাদেরও পাল্টা হামলায় বড় ক্ষতি হতে পারে বাহরিনে আমেরিকার নৌসেনা ঘাঁটিতে। সেখানেই মোতায়েন রয়েছে আমেরিকার পঞ্চম নৌবহর। প্রায় ৮,৩০০ মার্কিন সেনাও মোতায়েন রয়েছে সেখানে। ইরানে হামলার জন্য কাতার থেকে সেখানে বাড়তি বাহিনী পাঠানো হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ক্রমে তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। খামেনেইয়ের অপসারণ চাইছেন ইরানের মানুষ। রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের দমন করতে কঠোর হয়েছে ইরান প্রশাসন। নির্বিচারে প্রতিবাদীদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদসংস্থার রিপোর্টে দাবি, ইরানে নিহতের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। গুলিবিদ্ধ রোগীতে উপচে পড়ছে হাসপাতালগুলি। বিক্ষোভ দমন করতে গত কয়েক দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে ইন্টারনেট চালু করার জন্য তিনি ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলবেন। পাশাপাশি এক আন্দোলনকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না-করার জন্য তেহরানের উপর চাপ বাড়িয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমশ দানা বাঁধছে।

(এই প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশের সময় পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনাঘাঁটির তালিকায় ইরানের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। সেটি ভুল। ইরানে মার্কিন সেনার কোনও ঘাঁটি নেই। এ ক্ষেত্রে ইরানের পরিবর্তে ইরাক হবে। অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির জন্য আমরা আন্তরিক দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।)

US-Iran Relation Qatar US-Iran Conflict Pentagon US Army
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy