ইরান যে শর্তে যুদ্ধবিরতি চাইছে, তাতে রাজি নন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তিনি ইরানের সঙ্গে এমন কোনও সমঝোতা করবেন না। বরং, দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে ইরান ‘সম্পূর্ণ ভাবে পরাজিত’ হয়েছে বলেই মনে করছেন ট্রাম্প।
সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, “ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক বাহিনী দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে। ইরান এখন সম্পূর্ণ ভাবে পরাজিত এবং ওরা সমঝোতা করতে চাইছে। তবে ওরা যে সমঝোতার কথা বলছে, তা আমি মেনে নেব না।” ইরানের বিরুদ্ধে এই সংঘর্ষ আর কত দিন চলবে, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন। সংঘর্ষ শুরুর পর প্রাথমিক পর্বে তিনি দাবি করেন, অন্তত চার সপ্তাহ এই সংঘর্ষ চলবে। পরে আবার তিনি আভাস দেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনার অভিযান আর বেশি দিন চালাতে চান না তিনি।
এরই মধ্যে শনিবার তৃতীয় সপ্তাহে পড়ল আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি। আর কত দিন এই সংঘর্ষ চলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। শুক্রবার রাতেই ‘সিএনএন’-কে ট্রাম্প বলেন, যখন তিনি ভিতর থেকে অনুভব করবেন, তখনই এই সংঘর্ষ থামাবেন। এর পরে শনিবার সকালে ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। রিপোর্ট অনুযায়ী, খার্গ দ্বীপে অন্তত ১৫টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। তবে মার্কিন হামলায় কোনও তৈলভান্ডারের ক্ষতি হয়নি। সেনাঘাঁটি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিশানা করে হামলা চালানো হয়েছে। নিশানা করা হয়েছে জোশেন সমুদ্রবন্দরকেও। ওই হামলাকে পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে জোরালো হামলা বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন:
পশ্চিম এশিয়ায় এই সংঘর্ষ থামানোর জন্য কয়েক দিন আগেই তিন দফা শর্ত শুনিয়ে রেখেছিল ইরান। তেহরানের দাবি ছিল, ইরানকে তার ‘ন্যায্য অধিকার’ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে তেহরানের দাবি, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা আগামী দিনে ইরানে আর আক্রমণ করবে না। এই তিন শর্তের কথাই মূলত বলেছিল ইরান। তবে ট্রাম্প কোন সমঝোতার প্রস্তাব ‘নাকচ’ করার কথা বলতে চাইছেন, তা তাঁর পোস্টে স্পষ্ট নয়।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার পথে আর যেতে চাইছেন না তাঁরা। আরাঘচি জানান, অতীতে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসে খুব তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে ইরানের। তাই এখন আমেরিকার সঙ্গে আর আলোচনায় বসার ভাবনাচিন্তা করছেন না তাঁরা।