আগামী এক মাসের মধ্যে ভেনেজ়ুয়েলায় নির্বাচনের কোনও সম্ভাবনা নেই। এমনকি ভোট হতে হতে দেড় বছর সময় লেগে যেতে পারে। সোমবার সেটাই বুঝিয়ে দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এ-ও বুঝিয়ে দিলেন, দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিকে আপাতত বকলমে নিয়ন্ত্রণ করবে আমেরিকাই।
ট্রাম্পের দাবি, আগে তাঁরা ভেনেজ়ুয়েলাকে সংস্কার করবেন। তার পরেই সেখানে ভোট হবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কথায়, “আমাদের আগে ওই দেশটিকে (ভেনেজ়ুয়েলাকে) ঠিকঠাক করতে হবে। এখন সেখানে নির্বাচন করা যাবে না। এখন সেখানে সাধারণ মানুষের পক্ষে ভোট দেওয়া কোনও ভাবেই সম্ভব নয়।”
ভেনেজ়ুয়েলায় এই সংস্কারের জন্য বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলেও মনে করছেন ট্রাম্প। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এর জন্য কিছুটা সময় লাগবে। আমাদের আগে ওই দেশটিকে সুস্থ করে তুলতে হবে।” এর জন্য আনুমানিক ১৮ মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন ট্রাম্প। যদিও পর ক্ষণেই তিনি বলেন, “হয়তো আমরা আরও কম সময়ে এটা করে ফেলতে পারি। তবে এর জন্য অনেক অর্থ ঢালতে হবে।” আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কথায়, “(ভেনেজ়ুয়েলায় সংস্কারের জন্য) প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় করতে হবে। তেল সংস্থাগুলিই তা ব্যয় করবে। পরবর্তী সময়ে তারা আমাদের কাছ থেকে বা রাজস্বের মাধ্যমে সেই অর্থ ফেরত পেয়ে যাবে।”
ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাম মাদুরোকে তাঁরই প্রাসাদ থেকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে গিয়েছে মার্কিন সেনা। বর্তমানে আমেরিকার আইন অনুযায়ী, তাঁর বিচার পর্ব শুরু হয়েছে নিউ ইয়র্কের আদালতে। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে সোমবার শপথ নিয়েছেন সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেস। তবে এখনই সে দেশে আমেরিকা কোনও নির্বাচন হতে দেবে না, সোমবার তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ট্রাম্প।
ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সেনা অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে হরণ করেছে আমেরিকা। বোমাও ফেলেছে কারাকাসে। তবে ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজ়ুয়েলার সঙ্গে কোনও যুদ্ধ করছে না আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, “আমাদের যুদ্ধ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে। আমরা এমন লোকেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি, যাঁরা নিজেদের দেশের জেলের আসামিদের, মাদকাসক্তদের আমাদের দেশে পাঠিয়ে দেন।”