Advertisement
E-Paper

হিরোশিমায় ফেলা ‘লিট্‌ল বয়ের’ ২০ গুণ শক্তিশালী বোমা বইতে সক্ষম! ‘ডুম্‌সডে’ পরীক্ষা করিয়ে ট্রাম্প-বার্তা কি ইরান-সহ বিশ্বকে?

মঙ্গলবার এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয়। এক বিবৃতি জারি করে আমেরিকার স্পেস ফোর্স এই পরীক্ষার কথা জানিয়েছে। বায়ুসেনার গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কাজ করেছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১২:৩১
মিনিটম্যান ৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা আমেরিকার। ছবি: সংগৃহীত।

মিনিটম্যান ৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা আমেরিকার। ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের আবহে মিনিটম্যান ৩ (এলএমজি ৩০ মিনিটম্যান) ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল আমেরিকা। যাকে অনেক সময় ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্রও বলা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র এমন পরমাণু বোমা (ওয়ারহেড) বহন করতে পারে, যার শক্তি হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার চেয়েও প্রায় ২০ গুণ বেশি। ইরানের সঙ্গে যখন আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের এই সামরিক সংঘাত তুঙ্গে, সেই আবহে পরমাণু বহনক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করে কি ইরান-সহ বিশ্বকে কোনও বার্তা দিতে চাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয়। এক বিবৃতি জারি করে আমেরিকার স্পেস ফোর্স এই পরীক্ষার কথা জানিয়েছে। বায়ুসেনার গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কাজ করেছে। ক্যালিফর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস সেন্টার থেকে মিনিটম্যান-৩ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে এটাও দাবি করা হয়েছে, এই পরীক্ষণের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের কোনও যোগসূত্র নেই। দীর্ঘ সময় ধরে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি আটকে ছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সেই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হল বলে দাবি করেছে স্পেস ফোর্স।

প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় যখন সামরিক সংঘাত তুঙ্গে, বিশেষ করে যেখানে আমেরিকা জড়িয়ে রয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, সেই মুহূর্তে এই ধরনের পরমাণু বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে কি শক্তি আস্ফালনের একটা নিদর্শন দেওয়ার চেষ্টা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? সামরিক উত্তেজনার আবহের মধ্যেই কেন এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার করা হল, তা নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে বার বারই সুর চড়িয়েছে আমেরিকা। ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য নানা ভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বার কয়েক বৈঠকও হয় দু’দেশের মধ্যে, কিন্তু কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। আমেরিকা বার বারই অভিযোগ তুলেছে, গোপনে পরমাণু কর্মসূচি চালাচ্ছে ইরান। তাদের এটা বন্ধ করতে হবে। যদিও তা অস্বীকার করেছে তেহরান। দাবি করেছে, তারা সামরিক ক্ষেত্রে পরমাণু প্রযুক্তি কাজে লাগাতে চায় না। সেই সঙ্গে আমেরিকার কাছে নতিস্বীকার করতে চায়নি ইরানের প্রশাসন। যার জেরেই পশ্চিম এশিয়ায় এই সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত।

আমেরিকার এই ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য কী?

নাম মিনিটম্যান-৩। এটিকে ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্রও বলা হচ্ছে। আমেরিকার অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম শক্তিশালী এই ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।আমেরিকার সবচেয়ে পুরনো আইসিবিএমের মধ্যে একটি হল মিটিনম্যান ৩। ১৯৭০-এর দশক থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র স্থলভাগ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে পারে। এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৪,১৪০ কিলোমিটার। এটি পরমাণু বোমা বহনক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র। তবে আমেরিকার দাবি, মঙ্গলবার যে পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে এই ক্ষেপণাস্ত্রে কোনও বোমা ব্যবহার করা হয়নি। আমেরিকার কাছে এ রকম ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র আছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম মিনিটম্যান এই কারণেই যে, এক মিনিটের মধ্যে নিশানাকে ধ্বংস করতে পারে।

Ballistic Missile Test USA
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy