Advertisement
E-Paper

ট্রাম্পের চিন সফরের আবহে সক্রিয় জাপান! ফিলিপিন্সকে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করার প্রস্তাব নিয়ে শুরু পর্যালোচনা

গত নভেম্বরে তাইওয়ান উপকূল থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইয়োনাগুনি দ্বীপে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের প্রস্তুতি শুরু করেছিল জাপান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ২৩:৩৭
ফিলিপিন্সকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে জাপান।

ফিলিপিন্সকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে জাপান। —ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ চিন সাগরে আমেরিকার সঙ্গে জাপানের যৌথ নৌমহড়া ঘিরে গত সপ্তাহেই উষ্মা প্রকাশ করেছিল চিন। উত্তেজনার সেই আবহেই এ বার চিনের আর এক ‘শত্রু দেশ’ ফিলিপিন্সকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে জাপান। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, ম্যানিলাকে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র (সারফেস-টু-শিপ মিসাইল) রফতানির বিষয়টি বিবেচনা শুরু করেছে টোকিও। ঘটনাচক্রে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিন সফরের মধ্যেই টোকিয়োর এমন উদ্যোগ প্রকাশ্যে এল। সম্প্রতি জাপান প্রতিরক্ষা রফতানি নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে। নতুন নীতিতে যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র-সহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম বিদেশে রফতানির পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

গত নভেম্বরে তাইওয়ান উপকূল থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইয়োনাগুনি দ্বীপে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের প্রস্তুতি শুরু করেছিল জাপান। তার পরে বেজিং-টোকিয়ো সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। চিনা হুমকি উড়িয়ে সে সময় জাপানি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জানিয়েছিলেন, চিন যদি তাইওয়ান দখল করতে উদ্যোগী হয় তবে তাঁরা চুপ করে বসে থাকবেন না। তিনি বলেন, ‘‘প্রয়োজনে তাইওয়ানকে সামরিক সাহায্য করা হবে।’’ এর পরে চিনা প্রতিরক্ষা দফতর বিবৃতিতে বলে, ‘‘তাইওয়ান পরিস্থিতি নিয়ে নাক গলানো বন্ধ না করলে ‘ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপের’ মুখে পড়বে জাপান।’’

তার এক দিন পরেই উপকূলরক্ষী বাহিনীর রণতরী ঘিরে ফেলেছিল জাপানের সেনকাকু দ্বীপ। যদিও পরে তারা সরে গিয়েছিল। এর পরে গত সপ্তাহে আমেরিকা অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপিন্স, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্যকে নিয়ে জাপানে নৌমহ়ড়ায় আয়োজন করেছিল দক্ষিণ চিন সাগরে। যা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল চিন। ঘটনাচক্রে, দক্ষিণ চিন সাগরের অধিকাংশ এলাকাই নিজেদের অংশ বলে দাবি করে বেজিং। তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ফিলিপিন্স, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনেইয়ের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে একদলীয় চিনের কমিউনিস্ট শাসকগোষ্ঠীর বিরোধও রয়েছে। ফিলিপিন্স এবং চিনের বিরোধের অন্যতম কারণ দক্ষিণ চিন সাগরের সেকেন্ড থমাস শোলে দ্বীপকে কেন্দ্র করে।

ফিলিপাইন দ্বীপের পালাওয়ান থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই দ্বীপে ১৯৯৯ সালে ফিলিপিন্স নৌবাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি জাহাজে অস্থায়ী নৌঘাঁটি বানিয়ে অবস্থান নিয়েছিল প্রায় দু’দশক আগে। এর পরে ২০১২ সালে ফিলিপিন্সের কাছ থেকে স্কারবোরো শোলে দ্বীপের দখল নিয়েছিল চিনা পিপলস্‌ লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। যা নিয়ে দু’দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০১৬ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট বাণিজ্য সামগ্রীর প্রায় ২১ শতাংশই দক্ষিণ চিন সাগরের জলপথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়। বিগত কয়েক বছরে সেই পরিমাণ আরও বেড়েছে। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে চিনের সংঘাতের পারদ চড়ছে।

Philippines China
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy