রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর জন্য ইউরোপের তুলনায় অনেক বেশি স্বার্থত্যাগ করেছে আমেরিকা। এমনটাই দাবি করলেন আমেরিকার রাজস্বসচিব স্কট বেসান্ত। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করার জন্য ভারতের উপরে জরিমানা বাবদ ২৫ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। অন্য দিকে ইউরোপ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূ়ড়ান্ত করছে। অবস্থানগত এই ফারাক বোঝাতে গিয়েই এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প সরকারের রাজস্বসচিব।
বেসান্ত বলেন, “ইউরোপীয়দের তুলনায় আমেরিকা অনেক বেশি স্বার্থত্যাগ করেছে। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য আমরা ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছি। আর দেখুন কী হচ্ছে! ইউরোপীয়রা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করছে। রাশিয়া থেকে তেল ভারতে যায়। সেখান থেকে তা পরিশোধিত পণ্য হয়ে অন্য দেশে যায়। ইউরোপীয় জোট সেই পরিশোধিত পণ্যই কিনছে। তারা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অর্থ ঢালছে।”
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর জন্য সাম্প্রতিক অতীতে বার বার চেষ্টা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই এই যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে মন্তব্য করে আসছিলেন তিনি। ক্ষমতায় এলে নিমেষে যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন, এমন দাবিও করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বার ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আসার পরে এক বছরেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। দফায় দফায় আলোচনার পরেও যুদ্ধ থামিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। এমনকি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কিকে এক টেবিলে আলোচনাতেও বসিয়ে উঠতে পারেনি আমেরিকা।
এ অবস্থায় রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখার কারণে ভারতের উপরে জরিমানা বাবদ ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক (মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক) চাপিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। আমেরিকার দাবি, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনে। সেই তেল বিক্রির অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করে রাশিয়া। ভারত যাতে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়, সেই চেষ্টাতেই এই ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। প্রাথমিক ভাবে তাতে সায় ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইউরোপীয় বন্ধুদের বরাবর পাশে পেয়েছে কিভ। রাশিয়াকে কোণঠাসা করার চেষ্টায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে গিয়ে বৈঠক করেন ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতাও। তবে উদ্ভূত কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে ইউরোপীয় জোটের। আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি সমর্থন না-করায় ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পরিবর্তিত কূটনৈতিক সমীকরণে ভারতের সঙ্গেও সম্পর্ক মসৃণ হয়েছে ইউরোপীয় জোটের। এ বছর দিল্লিতে সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রিত ছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েনও। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা তাঁর। ওই বৈঠক থেকেই বাণিজ্যচুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা হতে পারে।