মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছোতেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল আমেরিকার ‘বন্ধু’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। তাদের ভূখণ্ড, আকাশ বা জলসীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও রকম সামরিক অভিযান চালানো যাবে না। সোমবার তা স্পষ্ট করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জুগিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জেরে ফের আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দু’টি দেশই একে অন্যকে হুঙ্কার এবং পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে রেখেছে। গত বছরের মতো ফের ইরানে হামলা করতে পারে আমেরিকা, এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। আমেরিকার এই রণতরীতে যুদ্ধবিমানও ওঠানামা করতে পারে। সঙ্গে রয়েছে আরও তিনটি রণতরী।
আরও পড়ুন:
কূটনৈতিক স্তরে আমেরিকার অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র হিসাবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মধ্যস্থতার জন্যও আমেরিকা আলোচনায় বসেছিল এই সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেই। অনেকেই মনে করছেন, আমেরিকা যদি ইরানে হামলার কোনও পরিকল্পনা করে, তবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে ব্যবহার করা কৌশলগত ভাবে সুবিধাজনক হবে পেন্টাগনের কাছে। কারণ, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভূখণ্ড বিভক্ত রয়েছে পারস্য উপসাগর, হরমুজ় প্রণালী এবং ওমান উপসাগর দিয়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবারই বিবৃতি জারি করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশ মন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও রকম সামরিক পদক্ষেপে তাদের ভূখণ্ড, আকাশসীমা এবং জলসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে কোনও রকম সহযোগিতাও করা হবে না।
গত সপ্তাহেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, আমেরিকার একটি আর্মাডা (নৌবহর) ইরানের দিকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এ-ও জানান, তিনি আশা করছেন সেগুলিকে ব্যবহার করার দরকার হবে না। ট্রাম্পের ওই হুঁশিয়ারির পরই ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে যাওয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা এবং নিরাপত্তার জন্য পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন রয়েছে রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন। তবে তাদের দাবি, এটি ইরানের সীমান্ত লাগোয়া আরব সাগরে মোতায়েন নেই। ভারত মহাসাগরে মোতায়েন রয়েছে।