Advertisement
E-Paper

হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে শামিলদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার! অধ্যাদেশ জারি ইউনূসের

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গণআন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণে কারও বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা হয়ে থাকলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারি আইনজীবী আদালতে আবেদন করবেন। ওই আবেদনের পরে আদালতে সেই মামলা নিয়ে আর এগোনো হবে না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০০
(বাঁ দিকে) শেখ হাসিনা এবং মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) শেখ হাসিনা এবং মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যত দেওয়ানি, ফৌজদারি মামলা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হবে। এই নিয়ে অধ্যাদেশ জারি করল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনও মামলা, অভিযোগ আনা হবে না।

বাংলাদেশের আইন মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, সে দেশের রাষ্ট্রপতি ২৫ জানুয়ারি ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন। গত ১৫ জানুয়ারি ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক হয়। সেখানে এই অধ্যাদেশের খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গণআন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণে কারও বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা হয়ে থাকলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারি আইনজীবী আদালতে আবেদন করবেন। ওই আবেদনের পরে আদালতে সেই মামলা নিয়ে আর এগোনো হবে না। মামলা প্রত্যাহার হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। অভিযুক্ত সঙ্গে সঙ্গে অব্যহতি বা খালাস পাবেন। কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে জমা করতে হবে। কমিশন সেই নিয়ে তদন্ত করবে। নিহত ব্যক্তি যদি কোনও প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে নিযু্ক্ত থাকেন, তা হলে সেই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর কোনও কর্তাকে তদন্তভার দিতে পারবে না কমিশন। তদন্তের সময় অভিযুক্তকে গ্রেফতার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী আধিকারিক তার কারণ উল্লেখ করে আগে কমিশনের অনুমোদন নেবেন।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্তে যদি দেখা যায়, তিনি অপরাধে জড়িত ছিলেন, তা হলে কমিশন নির্দিষ্ট আদালতের দ্বারস্থ হবে। আদালত সেই আবেদনকে পুলিশের আবেদন মনে করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায় যে, অভিযোগে উল্লেখ করা কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সে ক্ষেত্রে কমিশন মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনও আদালতে সংশ্লিষ্ট কাজ নিয়ে কোনও মামলা করা যাবে না বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না।

২০২৪ সালে জুলাই মাসে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশের পথে নামে ছাত্র-যুব সমাজের বড় অংশ। ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগের সরকার। বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন হাসিনা। ওই ঘটনায় পুলিশ, প্রশাসনের কর্মীদের নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল। প্রাণ গিয়েছিল বাহিনীর সদস্যদের। ওই ঘটনায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, এ বার তা প্রত্যাহারের জন্য অধ্যাদেশ জারি করল ইউনূস সরকার।

Bangladesh Unrest Sheikh Hasina Muhammad Yunus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy