পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আয়োজিত আমেরিকা এবং ইরানের শান্তিবৈঠক কী কারণে ব্যর্থ হয়েছে, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী নানা দাবি রয়েছে। তবে আমেরিকার দুই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত রাখার সময়সীমা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি তেহরান এবং ওয়াশিংটন। এই সূত্রেই উঠে আসছে ২০ বনাম ৫ তত্ত্ব।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছিল আমেরিকা। আর এক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত করতে রাজি ছিল।
‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে যে, ইসলামাবাদের বৈঠকে আমেরিকা শর্ত দেয়, ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তুলে দিতে হবে। এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি ইরান। প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান জানায়, আমেরিকা চাইলে তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মান কমাতে পারে। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে অন্যের হাতে তুলে দেবে না।
অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন প্রতিনিধিরা হঠাৎ ইসলামাবাদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে দর কষাকষির সময় এবং সুযোগ বিশেষ ছিল না। আলোচনার মধ্যেই যে ভাবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য ইরানকে দোষারোপ করেন, সেটাও ভাল ভাবে নেয়নি তেহরান।
এই আবহে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইয়ান ব্রেমার মঙ্গলবার দাবি করেছেন যে, সাড়ে ১২ বছর ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখবে, এমন একটা বোঝাপড়া প্রায় হয়েই গিয়েছিল। তার পর দু’পক্ষের আলোচনা কেন ভেস্তে গেল, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি ব্রেমার। তিনি কোন সূত্রে এই খবর পেয়েছেন, তা-ও স্পষ্ট করেননি।
গত সপ্তাহে ইসলামাবাদের এক অভিজাত হোটেলে প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে আমেরিকা এবং ইরানের। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল পাকিস্তান। তবে দীর্ঘ ওই বৈঠক থেকে কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ এপ্রিল। ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে সংবাদসংস্থা রয়টার্সও ঘটনাপরম্পরা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ১১টি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছে, আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে।