মৃত্যুশয্যায় মা। দু’টি কিডনিই প্রায় নষ্ট। কিন্তু ছেলে মাকে নিজের কিডনি দিতে চাইলেও রাজি হতে পারেননি মা। শত হলেও তিনি তো মা! তাই সন্তানের ক্ষতি করে নিজে বাঁচবেন, এমনটা ভাবতেই পারেননি।
এ দিকে, মাকে কিডনি দিতে যে বদ্ধপরিকর ছেলে। তাই ফন্দি আঁটলেন যে ভাবেই হোক, রাজি করাবেন মাকে। এর দিন কয়েক পরে ছেলে অনলাইনে নিজের কিডনি বিক্রির কথা মাকে জানালেন। তাতে কাজও হল। ছেলের কথা শুনে রেগে গিয়ে মা বললেন, ‘‘অজানা অচেনা এক জনকে তুমি কেন তোমার কিডনি বিক্রি করবে? তা হলে তো আমাকেই দিতে পারো।’’
ব্যস! মুস্কিল আসান। এর পরে আর কোনও বাধা বিপত্তি আসেনি। এই ভাবে নিজের একটা কিডনি দিয়ে মায়ের প্রাণ বাঁচিয়েছেন বছর চৌত্রিশের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ল্যাঙ্কাশায়ার ব্ল্যাকবার্নের বাসিন্দা ইমরান নজীব।
কেন এই রাস্তা বেছেছিলেন তিনি?
নজীব জানালেন, মা রাজি হচ্ছেন না দেখে ছুটে গিয়েছিলেন চিকিৎসকদের কাছে। কোনও ভাবে দাতার নাম প্রকাশ না করেই কিডনি দানের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দেন, আইনি পথে তা একেবারেই সম্ভব নয়।
আর এর পরেই মাথায় বুদ্ধি খেলে যায়। প্রায় যুদ্ধ জয়ের ভঙ্গিতেই সেই গল্প শোনালেন পেশায় ব্যাঙ্ক ম্যানেজার নজীব।
বললেন, ‘‘আসলে ছোট বেলায় অনেক ক্ষেত্রেই বাবা-মায়ের সঙ্গে একটু কৌশল করতে হয়। এ ক্ষেত্রে আমাকেও সেটাই করতে হয়েছে। তাতে লাভও হয়েছে। কারণ, মা ইংরাজি পড়তে জানেন না। আর ওই জায়গাটাকেই কাজে লাগিয়েছিলাম। আর তাতে অনলাইনে আমার কিডনি বিক্রির কথা শুনে মায়ের আসল ইচ্ছেটা প্রকাশ পেয়েছে।’’