পঠানকোট-কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত তথা জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের ‘আটক’ সংক্রান্ত নাটক অবশেষে শেষ হয়েছে বলে মনে হয়েছিল প্রথমে। কিন্তু দিনের শেষে মাসুদ কোথায়, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেল। বৃহস্পতিবার সকালে ভারত-পাকিস্তান বিদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠক স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করার পাশাপাশিই পাক বিদেশ মন্ত্রক সরাসরি জানিয়ে ছিল, মাসুদের আটক সম্পর্কিত কোনও তথ্য তাদের সরকারের কাছে নেই! যা শোনার পরে নয়াদিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ বলেন, ‘‘মাসুদ আজহারকে আদৌ আটক করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পাকিস্তান সরকার ভারতকে কিছুই জানায়নি।’’ কিন্তু রাতে পাক পঞ্জাবের আইনমন্ত্রী সানাউল্লা খানকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, জইশ প্রধানের নিরাপত্তার জন্য তাকে হেফাজতে নিয়েছে পঞ্জাব পুলিশ।
মাসুদ যেখানেই থাকুক না কেন, পঠানকোট কাণ্ডের জেরে তার সংগঠনের কয়েক জনকে পাক সরকার গ্রেফতার করায় অবশ্য খুশি ভারত। বিকাশ স্বরূপের কথায়, ‘‘এখন পর্যন্ত পঠানকোট কাণ্ডে অভিযুক্ত জইশ সদস্যদের গ্রেফতারির বিষয়ে পাকিস্তান যা পদক্ষেপ নিয়েছে তাকে স্বাগত জানাচ্ছে ভারত। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।’’
নরেন্দ্র মোদী সরকার দু’দেশের মধ্যে বৈঠক প্রশ্নে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোলেও গতকাল এবং আজ মাসুদ আজহারের আটক হওয়াকে ঘিরে নাটকের প্রশ্নে পাকিস্তানের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রণদীপ সূর্যেওয়ালার বক্তব্য, ‘‘পাকিস্তান আবার তাদের রং দেখাতে শুরু করেছে! এটা ওদের পুরনো খেলা। ভারত সরকারের উচিত সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলা।’’ আরও একটি প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই উঠেছে যে, ২০০৮ সালে মুম্বই হামলার পরে ভারতের দাবি মেনে ওই কাণ্ডের মূল মাথা জাকিউর রহমান লকভিকে আটক করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রমাণের অভাবে তাকে ছেড়ে দেয় পাক প্রশাসন। সংশয় হল, এ ক্ষেত্রেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না তো? এই প্রশ্নের উত্তরে বিকাশ স্বরূপ বলেন, ‘‘আমরা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে হাতে-কলমে যা যা প্রমাণ পাচ্ছি, তার উপরেই কাজ করছি। আর সেই জায়গা থেকেই পাকিস্তানের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি।’’