Advertisement
E-Paper

প্রি-স্কুল ব্যবসার নজরে গ্রামের বাজার

শহরের ইংরেজি মাধ্যম স্কুল নয়। এ বার উদ্যোগ পুঁজি টানছে গ্রামাঞ্চলে বাংলা মাধ্যমের ‘প্রি-স্কুল’ ব্যবসা। সারা দেশের মতো এ রাজ্যেও ক্ষুদে পড়ুয়াদের দিকে নজর রেখে কয়েক বছর ধরে ‘প্রি-স্কুল’ ব্যবসা ছড়াচ্ছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরে। চাহিদা ও জোগানের ছক মেনে জেলা শহরেও চালু হচ্ছে এ ধরনের স্কুল।

গার্গী গুহঠাকুরতা

শেষ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০১৫ ০২:৩৩

শহরের ইংরেজি মাধ্যম স্কুল নয়। এ বার উদ্যোগ পুঁজি টানছে গ্রামাঞ্চলে বাংলা মাধ্যমের ‘প্রি-স্কুল’ ব্যবসা।

সারা দেশের মতো এ রাজ্যেও ক্ষুদে পড়ুয়াদের দিকে নজর রেখে কয়েক বছর ধরে ‘প্রি-স্কুল’ ব্যবসা ছড়াচ্ছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরে। চাহিদা ও জোগানের ছক মেনে জেলা শহরেও চালু হচ্ছে এ ধরনের স্কুল। ব্যবসার গন্ধে পৌঁছে যাচ্ছে নামী-দামি ব্র্যান্ডের চেন স্কুলও। মোট ব্যবসার ৩০ শতাংশের বেশি আপাতত ছোট শহরের দখলে।

আর এক ধাপ এগিয়ে ‘প্রি-স্কুল’ ব্যবসার পরিকল্পনায় এ বার ঢুকে পড়ল গ্রাম-গঞ্জ। রাজ্যে তিন হাজারের বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতের দিকে নজর রেখে বাংলা মাধ্যমে ‘প্রি-স্কুল’ তৈরি করছে স্থানীয় সংস্থা নালন্দা লার্নিং সিস্টেমস। পশ্চিমবঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা ৩৩৫৪। কোথাও এ ধরনের স্কুল নেই বললেই চলে। সংস্থার কর্তা তমাল মুখোপাধ্যায়ের দাবি, পঞ্চায়েত স্তরে এ ধরনের স্কুলের চাহিদা আরও বেশি। কারণ গ্রামের সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণির আগে ক্ষুদেদের পড়াশোনার ব্যবস্থা নেই। ফলে ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও বিপুল।

Advertisement

গ্রামে ‘প্রি-স্কুল’-এর মাধ্যম হিসেবে বাংলাকেই বেছে নিয়েছে সংস্থা। কারণ পরবর্তী পর্যায়ে পড়াশোনা করার জন্য গ্রামে প্রায় সব পড়ুয়ারই ভরসা স্থানীয় সরকারি স্কুল। যার মাধ্যম বাংলা। ‘সূচনা’ ব্র্যান্ড-নামে বাংলা মাধ্যমের এই প্রি-স্কুল চেন প্রথমে হুগলি জেলার পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতে চালু হবে বলে সংস্থার দাবি। পরিকল্পনায় রয়েছে রাজ্যের সব গ্রাম পঞ্চায়েত। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রকল্প নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করেছে উদ্যোগ পুঁজি সংস্থাগুলি।

আর, এই আগ্রহ ব্যবসার অঙ্ক কষার পরেই তৈরি হয়েছে। উদ্যোগ পুঁজি সংস্থাগুলির দাবি, যে-ব্যবসা দ্রুত ছোট থেকে বড় মাপে নিয়ে যাওয়া যায়, তা সব সময়ে পুঁজি টানবে। মেকমাইট্রিপ, জাস্ট ডায়ালের মতো সংস্থায় বিনিয়োগকারী উদ্যোগ পুঁজি সংস্থা স্যাফ পার্টনার্স-এর অন্যতম কর্তা অনুভব মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রি-স্কুলের বাজারে ব্যবসা বাড়ানোর সম্ভাবনা আকাশছোঁয়া।’’ একই বক্তব্য স্থানীয় উদ্যোগ পুঁজি সংস্থা টোটালস্টার্ট-এর প্রধান সূর্যনীল ঘোষের। তাঁর হাত ধরেই নালন্দা লার্নিং সিস্টেমস-এর প্রথম বিনিয়োগ টানা শুরু হয়। নালন্দার বর্তমান ব্র্যান্ড ‘লিটল লরিয়েটস’ প্রায় ১১ কোটি টাকার উদ্যোগ পুঁজি পেয়েছে।

২০১২ সালে ভারতে এই ব্যবসার মাপ ছিল ৭ হাজার কোটি টাকা। রেটিং সংস্থা ক্রিসিল-এর রিপোর্ট অনুয়াযী ২০১৫-’১৬ সালে তা ১৩,৩০০ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলবে। সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৩ হাজার। এবং সেখানে বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দৌলতেই এই বাজারে সংগঠিত ক্ষেত্রের উপস্থিতি বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয় প্রি-স্কুল ব্র্যান্ড ‘লিটল জর্জিয়ানস’-এর প্রধান সুব্রত দত্তের। তিনি জানান, জেলা শহরগুলিতে চাহিদার তুলনায় এখনও সরবরাহ কম। ফলে বাজার সম্ভাবনাময়। একই সুরে জি লার্নের বিপণন প্রধান অভিনব উপাধ্যায় জানান, তাঁর ‘কিডজি’ ব্র্যান্ডের প্রি-স্কুলের বৃদ্ধি ছোট শহরে অনেক বেশি।

দেশে দুই থেকে ছ’বছরের শিশুর সংখ্যাও ১০ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। অবশ্য এই সংখ্যার কণামাত্র স্কুলে যায়। তবে ২৭% হারে বাড়তে থাকা এই বাজারে ইওরোকিডজ, কিডজি, ট্রিহাউস, ক্যাঙ্গারু কিডজ-এর মতো দামি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে লিটল লরিয়েটস, লিটল জর্জিয়ানস-এর মতো স্থানীয় চেন।

ঊর্ধ্বমুখী এই বাজারে গড়ে ৩০% লাভ করে স্কুলগুলি। না-লাভ না-ক্ষতির জায়গায় পৌঁছে যেতে বছর খানেকের বেশি সময় লাগে না। নিত্যনতুন স্কুল খোলার পেছনে এই হিসেবের বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

বর্তমানে নামী ব্র্যান্ডের প্রি-স্কুলে পড়ানোর মাসিক খরচ গড়ে ৫০০ থেকে ৫ হাজার। শহরের শ্রেণি অনুযায়ী যা নির্ধারিত হয়। তবে গ্রামাঞ্চলে মাসিক খরচ ২৫০ টাকার মধ্যেই সীমিত থাকবে বলে দাবি ‘সূচনা’ কর্তৃপক্ষের। সংখ্যায় বেশি স্কুল খুলতে পারলে এই কম ফি পুষিয়ে যাবে বলে তাঁদের ধারণা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy