রেস্তরাঁগুলি ক্রেতাদের থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে পরিষেবা বাবদ চার্জ (সার্ভিস চার্জ) নিতে পারবে না বলে গত বছরের মাঝামাঝি নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে বেশ কিছু রেস্তরাঁ এখনও খাবারের বিলের মধ্যেই সেই চার্জ যোগ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২৭টি রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে নিজে থেকেই ব্যবস্থা নিলেন ক্রেতাসুরক্ষা কর্তৃপক্ষ সিসিপিএ। তাদের ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ক্রেতাদের থেকে নেওয়া টাকা ফেরানো ও বিল তৈরির ব্যবস্থা পাল্টানোরও। এগুলির মধ্যে রয়েছে মুম্বইয়ের চায়না গেট, পটনার কাফে ব্লু বট্ল প্রভৃতি।
বহু ক্রেতাই এই ‘সার্ভিস চার্জ’ নিয়ে ভুক্তভোগী বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, এই চার্জ না নেওয়ার নির্দেশ সত্ত্বেও রেস্তরাঁগুলি খাবারের বিলের সঙ্গে সেই খরচ হিসেবে বাড়তি টাকা আদায় করছে। সার্ভিস চার্জ কেন যোগ করা হয়েছে জিজ্ঞাসা করা হলে বলা হয়, খাবার পরিবেশন করার জন্য বখশিস বা টিপ্ হিসেবে টাকা চাওয়া হচ্ছে। দিল্লি হাই কোর্ট জানিয়েছিল, কোনও রেস্তরাঁ অতিথিদের কাছ থেকে পরিষেবা বাবদ চার্জ আদায় করতে পারবে না। রেস্তরাঁ বিলের সঙ্গে তা যোগ করে অতিরিক্ত টাকা দিতে জোর করলে, সেটা বেআইনি কাজ হিসাবে গণ্য হবে। যা জনস্বার্থ বিরোধী। সে ক্ষেত্রে সেখানে অতিথিরা অভিযোগ জানাতে পারবেন জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা হেল্প লাইন ১৯১৫ নম্বরে ফোন করে।
সিসিপিএ জানিয়েছে, হেল্পলাইনে আসা ফোন থেকেই রেস্তরাঁগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়েছে বিল। যাতে স্পষ্ট ওই ২৭টি রেস্তরাঁর ক্ষেত্রে খাবারের দামের সঙ্গেই নেওয়া হয়েছে সার্ভিস চার্জ। যা ক্রেতাসুরক্ষা আইন এবং সিসিপিএ-র নির্দেশের বিরোধী। যা অনুসারে, ক্রেতাদের সার্ভিস চার্জ দিতে বাধ্য করতে পারবে না রেস্তরাঁগুলি। অন্য ভাবেও এই টাকা আদায় করা যাবে না। টাকা দিতে না চাইলে পরিষেবা অস্বীকার করতে পারবে না তারা।
বিলের সঙ্গে ১০% হারে এই চার্জ নেওয়ার অভিযোগেই কাফে ব্লু বট্লকে ৩০,০০০ টাকা ও চায়না গেটকে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রথমটিকে ক্রেতাদের টাকা ফেরাতে বলা হয়েছে। মুম্বইয়ের রেস্তরাঁটি শুনানির সময়ে টাকা ফিরিয়েছে। তাদের এই অভ্যাস ত্যাগ করতে এবং বিল তৈরির ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতেও নির্দেশ দিয়েছে সিসিপিএ।
রেস্তরাঁগুলির সর্বভারতীয় সংগঠন এনআরএআই-এর যদিও দাবি ছিল, পরিষেবা দিতে টাকা নেওয়া বেআইনি নয়। মূলত, রেস্তোরাঁর খরচ এবং কর্মীদের টিপ্-সহ একাধিক বিষয় ধরা থাকে সার্ভিস চার্জ-এর মধ্যে। তা নিতে না দিলে খাবারের দাম বাড়বে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)