ভারতের থেকে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশতির কিনতে চলেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। এর জন্য খুব দ্রুত নয়াদিল্লি ও আবু ধাবির মধ্যে সম্পন্ন হবে হাতিয়ার চুক্তি। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই হু-হু করে ঊর্ধ্বমুখী হল জোড়া প্রতিরক্ষা স্টক। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই এ-হেন বাম্পার মুনাফায় লগ্নিকারীদের মুখের হাসি যে চওড়া হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
সোমবার, ২২ জুন, বাজার খোলার পর থেকেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (বিডিএল) এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের (বিইএল) শেয়ারের দাম। এই দিন ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (এনএসই) ১,৪১৩ টাকায় পৌঁছে দৌড় থামায় প্রথম সংস্থাটির স্টক। ফলে ৩৯.৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বিডিএলের শেয়ারের দর। শতাংশের নিরিখে সেটা প্রায় তিন শতাংশ।
একই ছবি ধরা পড়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্সের ক্ষেত্রেও। এই দিন এনএসই-তে একসময় ১.১২ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয় এর দাম। তবে সকাল ১০টা নাগাদ বেশ কিছুটা নেমেছিল বিইএলের স্টকের সূচক। দিনশেষে অবশ্য ৪৩১.০৫ টাকায় পৌঁছোয় ওই প্রতিরক্ষা সংস্থাটির শেয়ার। শুক্রবার, ১৯ জুনের নিরিখে ৪.১৫ টাকা বেড়েছে এর দর, যা ০.৯৭ শতাংশ।
গত বছরের (২০২৫ সাল) ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতীয় হাতিয়ারের চাহিদা। এর মধ্যে অন্যতম হল রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশতির। প্রথমটির সাহায্যে পাকিস্তানের ১১টি বিমানঘাঁটি ধ্বংস করে এ দেশের ফৌজ। অন্য দিকে, ইসলামাবাদের পাঠানো ড্রোনের ঝাঁককে উড়িয়ে খবরের শিরোনামে উঠে আসে আকাশতির।
রুশ সহযোগিতায় তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রটির মূল নির্মাণকারী সংস্থা হল ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস লিমিটেড। তবে এর উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত আছে ভারত ডায়নামিক্স। অন্য দিকে, নয়াদিল্লির ফৌজকে আকাশতির সরবরাহ করে থাকে ভারত ইলেকট্রনিক্স। এই দুই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ারের দর আগামী দিনে আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলেও মিলেছে ইঙ্গিত।
অপারেশন সিঁদুরের পর ভারতের সঙ্গে ব্রহ্মস চুক্তি করে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বার সেই রাস্তায় হাঁটতে চলেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও। ব্রহ্মসের পাশাপাশি আকাশতির নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের আলোচনা সেরে ফেলেছে আবু ধাবি।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত পাঁচ বছরে ৬৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ভারত ডায়নামিক্সের শেয়ারের দাম। ভারত ইলেকট্রিক্সের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির অঙ্ক ৬৩৯ শতাংশ। আমিরশাহির সঙ্গে দু’টি হাতিয়ারের চুক্তি চূড়ান্ত হলে এই সূচক কোথায় পৌঁছোয়, সেটাই এখন দেখার।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ারবাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)