E-Paper

যুদ্ধ থামার ইঙ্গিতেই চাঙ্গা শেয়ারবাজার, তবে চিন্তা থাকছে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে

তেল, উড়ান, রং এবং টায়ারের মতো মূলত যে সমস্ত শেয়ারের উপরে জ্বালানির দামের প্রভাব বেশি, সেগুলিই উত্থানের মুখ দেখেছে সপ্তাহের শেষ লেনদেনে। ডলারের দাম কমলে আমদানিকারীদের সুবিধা।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ০৬:০৯

— প্রতীকী চিত্র।

অবশেষে শুক্রবার কিছুটা স্বস্তির মুখ দেখল শেয়ার বাজার। বেশ কিছু দিন ধরে শান্তি চুক্তির প্রয়াস চললেও, ইরান ও আমেরিকা কিছুতেই যুদ্ধ বন্ধের উপায় স্থির করতে একমত হতে পারছিল না। সপ্তাহান্তে জানা গেল চুক্তি প্রায় পাকা। যে কোনও দিন সই হতে পারে। এই খবরের জন্যই অপেক্ষা করছিল বাজার। তা পাওয়া মাত্র গা ঝাড়া দিয়ে তেতে ওঠে ছোট, মাঝারি, বড় সব সূচক। এত দিন আতঙ্কে থাকা লগ্নিকারীদের খুশি করেসেনসেক্স লাফায় ১৬৯৫ পয়েন্ট। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের অধীনে নিফ্‌টি ব্যাঙ্ক এগোয় ১৬৩৮ এবং নিফ্‌টি মিডক্যাপ ১৪৪৩ পয়েন্ট। সব ধরনের শেয়ার এতটা বাড়ায় কিছুটা গতি পায় শেয়ার ভিত্তিক (একুইটি) ফান্ডগুলির নেট অ্যাসেট ভ্যালু বা ন্যাভ। যুদ্ধ থামার ইঙ্গিতে মাথা নামায় অশোধিত তেলের দামও। বিশ্ব বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড নামে ৮৬.৭১ ডলারে। ডলারের পতনে বৃদ্ধির মুখ দেখে টাকার দাম। প্রতি ডলার ৬৭ পয়সা কমে থিতু হয় ৯৫.১৮ টাকায়। আর এই সমস্ত পরিসংখ্যানই সদর্থক বার্তা বয়ে আনে বাজারে লগ্নিকারী তো বটেই, সরকারের কাছেও।

তেল, উড়ান, রং এবং টায়ারের মতো মূলত যে সমস্ত শেয়ারের উপরে জ্বালানির দামের প্রভাব বেশি, সেগুলিই উত্থানের মুখ দেখেছে সপ্তাহের শেষ লেনদেনে। ডলারের দাম কমলে আমদানিকারীদের সুবিধা। বাজারে আশা, হরমুজ় প্রণালী খুললে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে রফতানি স্বাভাবিক হবে এবং তেলের দাম আরও নামবে। তবে ভারতে পেট্রল-ডিজ়েল, রান্নার গ্যাসের দাম এখনই কমবে, এমন আশার কারণ নেই। বলা হবে গত তিন মাসে তেল সংস্থাগুলির বড় লোকসান হয়েছে।

তা ছাড়া প্রাথমিক উত্তেজনায় সূচক অনেকটা উঠেছে। তবে সেই উত্থান লাগামছাড়া হবে, তা মনে করার কারণ নেই। কারণ এই যুদ্ধের ক্ষত সারতে সময় নেবে। এপ্রিল-জুনে সংস্থাগুলির আর্থিক ফল থেকে স্পষ্ট হবে কোন সংস্থা কতটা ধাক্কাসামলাতে পারল।

তার উপরে শুক্রবারই প্রকাশ হয়েছে মে মাসের খুচরো মূল্যবৃদ্ধির পরিসংখ্যান। আশঙ্কা মিলিয়ে খুচরো বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে ৩.৯৩% হারে। এপ্রিলে ছিল ৩.৪৮%। জানুয়ারি থেকে প্রতি মাসেই একটু একটু করে বাড়ছে মূল্যবৃদ্ধির হার। এ বার প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছেরিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের লক্ষ্যমাত্রা (৪%)। অর্থাৎ সুদ বাড়ানোর প্রশ্ন পিছু ছাড়বে না অগস্টে শীর্ষ ব্যাঙ্কের ঋণনীতি বৈঠককেও। তার আগে জানা যাবে জুনে মূল্যবৃদ্ধি কোথায় দাঁড়িয়েছে। সে বুঝেই সিদ্ধান্ত নেবে আরবিআই।

অনেক দিন ধরে মিউচুয়াল ফান্ডের মোটা লগ্নি বাজারকে ভরাডুবি থেকে রক্ষা করছিল। যে সময়ে বিদেশী লগ্নিকারী সংস্থাগুলি টানা শেয়ার বেচেছে। বহু দিন বাজার ম্লানথাকায় এ বার ফান্ডে লগ্নিতে ভাটা পড়েছে। মে মাসে একুইটি ফান্ডে লগ্নি ৪০% কমে হয়েছে ২২,৯০৮ কোটি টাকা। এসআইপি পথে পুঁজি আসা অবশ্য প্রায় স্বাভাবিক ছিল। এখন দেখার যুদ্ধ থামালে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি ভারতের বাজারে ফেরেকি না।

(মতামত ব্যক্তিগত)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Price Hike market price Share Market Indian Economy

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy