থামছে না সোনা-রুপোর দৌড়। সোমবার লক্ষ্মীপুজোর জন্য বাজার বন্ধ থাকার পরে মঙ্গলবার খুলতেই সোনা বাড়ল ২০০০ টাকা। যার হাত ধরে জিএসটি বাদে খুচরো পাকা সোনা (২৪ ক্যারাট ১০ গ্রাম) ছাড়িয়ে গেল ১.২ লক্ষ টাকার গণ্ডি। নজির গড়ে দর দাঁড়াল ১,২০,৫৫০ টাকা। সোনার গয়নাও (২২ ক্যারাট ১০ গ্রাম) কর বাদে পৌঁছেছে ১,১৪,৬০০ টাকায়। একই ভাবে কর বাদে রেকর্ড গড়ে কেজিতে খুচরো রুপোর দামও পেরোল ১.৫০ লক্ষ টাকা (১,৫০,২৫০ টাকা)। এর জেরে এ বারের ধনতেরস ও দেওয়ালির কেনাকাটায় ভালরকম ভাটা পড়ার আশঙ্কায় স্বর্ণ শিল্পমহল। আর আমজনতা বলছেন, মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সোনার দাম। রুপো এখনও হয়তো কিছুটা আয়ত্তে। কিন্তু সেটাও কত দিন থাকবে, বোঝা যাচ্ছে না। ফলে বিয়ের মরসুমে উপহার হিসেবে সোনার গয়নার বিকল্প খুঁজছেন তাঁদের একাংশ।
বছরের শুরুতে কলকাতায় খুচরো পাকা সোনা ছিল ৭৭,১৫০ টাকা। সোনার গয়না ৭৩,৩০০ টাকা। সেখান থেকে মাত্র ন’মাস সাত দিনেই তা বেড়ে গিয়েছে যথাক্রমে ৪৩,৪০০ টাকা এবং ৪১,৩০০ টাকা। রুপোর বৃদ্ধি আরও বেশি। খুচরো রুপো ৮৬,৩৫০ টাকা থেকে বেড়েছে ৬৩,৯০০ টাকা। অনেকে বলছেন, বছর পাঁচেক আগে করোনার সময়ে সোনা-রুপোর যে দর ছিল, এ বছর এখনই বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে তার থেকে বেশি। ফলে দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটাই ভাবাচ্ছে।
চিন্তা বাড়িয়ে স্বর্ণ শিল্পের একাংশ বলছে, এখনই দাম কমার লক্ষণ নেই। অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শ্যাম মেহরার মতে, ডিসেম্বরে আমেরিকায় বড়দিনের ছুটিথাকার সময়ে বিশ্ব বাজারে দাম কমলে ভারতেও তা নামতে পারে। কিন্তু সে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক ফেডারাল রিজ়ার্ভ ঘোষণা অনুসারে সুদ কমালে সোনা চড়বে। তবে আমেরিকায় সরকারি কাজবন্ধ থাকায় অর্থনীতির পরিসংখ্যান মিলছে না। তাই যদি ফেড সুদ না কমায়, তা হলে সোনাও কমতে পারে।
তবে মেহরা বলছেন, ‘‘আগে সাধারণ ক্রেতা মূলত গয়না কিনতেন। কিন্তু এখন তাঁদের একাংশও লগ্নি হিসেবে পাকা সোনা কিনছেন। ফলে তখন মোট বিক্রি হওয়া সোনার ৫%- ৬% ছিল বুলিয়ন, এখন প্রায় ১২%।’’ দাম বৃদ্ধি বহাল থাকলে এই প্রবণতাও জারি থাকবে বলে তাঁর মত।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)