কাঁচা পাটের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণে তার অভাব দেখা দিয়েছে বাজার। সেই সঙ্কটের জেরে বন্ধ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১৪টি চটকল। ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি এবং তাদের লাগোয়া শিল্পাঞ্চলের চটকলগুলি একাংশ ঝাঁপ ফেলেছে। কয়েকটিতে অনিয়মিত কাজ চলছে, কমেছে উৎপাদন। সব মিলিয়ে কাজ হারানোর মুখে দাঁড়িয়ে প্রায় ৭৫,০০০ শ্রমিক। এই পরিস্থিতিতে সঙ্কট কাটাতে রাজ্যের নতুন সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করল চটকল মালিকদের সংগঠন আইজেএমএ। তাদের দাবি, কাঁচা পাটের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং মজুত করা অবশিষ্ট পাট অবিলম্বে বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করা হোক। মিলগুলির জন্য জরুরি ভিত্তিতে পাটের আমদানির অনুমতি দিক সরকার। কাঁচা পাটের জোগান ও উৎপাদিত চটের বস্তার মধ্যে এমন ভারসাম্য রাখা হোক, যাতে চটকলগুলি মুনাফার মুখ দেখে।
আইজেএমএ-এর এক প্রাক্তন কর্তার দাবি, জুট বেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ দর স্থির রয়েছে কুইন্টালে ১৭,১০০ টাকায়। এ দিকে, বাণিজ্য প্রায় বন্ধ এবং নতুন পাট আসতে এখনও ১০ সপ্তাহ সময় লাগবে। এই অবস্থায় বাংলার মিলগুলিকে কাঁচামাল ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তবে চটকলগুলির আশা, নতুন সরকার মজুত পাট বাজার ছাড়ার ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি, আপৎকালীন ভিত্তিতে পাট আমদানিতে সায়-সহ একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ৫ মে থেকে পাট ব্যবসায়ী ও বেলারদেরকে কোনও পণ্য মজুত না রাখার নির্দেশ দেন জুট কমিশার। কিন্তু, ৭ মে থেকে কাঁচা পাটের দাম প্রকাশ বন্ধ রেখেছে বেলার্স অ্যাসোসিয়েশন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)