আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে প্রায় ৮টি প্রকল্প বন্ধ করে দিচ্ছে জীবনবিমা নিগম (এলআইসি)। যার মধ্যে আছে জীবন আনন্দ, জীবন উমঙ্গ, জীবন লক্ষ্য, জীবন লাভ। তবে এলআইসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যে সব গ্রাহক ইতিমধ্যেই সেগুলি কিনেছেন কিংবা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কিনবেন, তাঁদের পলিসি যত দিন যেমন চলার, তেমনই চলবে। যে শর্তে পলিসি কেনা হয়েছে, তাতেও কোনও পরিবর্তন হবে না। 

সবক’টিই এনডাওমেন্ট পলিসি। অর্থাৎ বিমার সুরক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত প্রিমিয়াম দিয়ে গেলে মেয়াদ শেষে বোনাস-সহ টাকা ফেরত পাওয়া যায়। তবে নিগম সূত্রের খবর, প্রকল্পগুলি আপাতত বন্ধ হলেও, কয়েকটির ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের অঙ্ক-সহ কিছু শর্ত ফের খতিয়ে দেখতে পারেন বিমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। তার পরে শর্তে কিছু বদল এনে সেগুলি চালুও হতে পারে আবার। 

এ দিকে, পলিসি বিক্রি থেকে এলআইসির ব্যবসা কমেছে বলে অভিযোগ তুলছেন এজেন্টদের একাংশ। লাইফ ইনসিওরেন্স এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সেক্রেটারি জেনারেল শ্যামল চক্রবর্তীর অভিযোগ, নোটবন্দি এবং জিএসটি চালুর পর থেকেই পলিসি বিক্রি কমতে শুরু করেছে। প্রায় ৩০% ব্যবসা হারিয়েছেন তাঁরা। শ্যামলবাবুর দাবি, ‘‘বিক্রি কমার প্রধান কারণ, তাতে জিএসটির হার বৃদ্ধি ও প্রিমিয়াম মেটানোর নিয়মে নানান বদল।’’ 

এক সময় টানা ১১টি ত্রৈমাসিকে লোকসান গোনা আইডিবিআই ব্যাঙ্কের পুঁজির হাল ফেরাতে ৯,৩০০ কোটি টাকা ঢালার কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। এর মধ্যে ৪,৭৪৩ কোটি (প্রায় ৫১%) ব্যাঙ্কটির বৃহত্তম প্রোমোটার এলআইসি মারফত। তখনই প্রশ্ন ওঠে, একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে দিয়ে দুর্বল ব্যাঙ্কের অংশীদারি কেনালে শক্তিশালী সংস্থাটির উপরে বিরূপ প্রভাব পড়বে না তো? বিশেষত এলআইসির ব্যবসার উপরে যেখানে নির্ভর করে ২৯ কোটি পলিসিহোল্ডারের পুঁজির ভবিষ্যৎ?