জুনের পরেও অশোধিত তেল উৎপাদন ছাঁটাই বজায় রাখতে পারে তেল রফতানিকারী দেশগুলির সংগঠন ও তাদের সহযোগীরা। ওপেক সদস্য সৌদি আরবের স্পষ্ট ইঙ্গিত, তারা ওই সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে এক প্রকার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে। তবে তা চূড়ান্ত করার আগে সংগঠনের বাইরে থাকা অন্য রফতানিকারী দেশগুলির সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলবে তারা। সৌদির এই ইঙ্গিতে শুক্রবার সামান্য হলেও ফের বাড়তে শুরু করেছে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম।  
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম পড়তে থাকায় জানুয়ারি থেকে ছ’মাসের জন্য অশোধিত তেলের উৎপাদন ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওপেক। রাশিয়া-সহ ওপেকের বাইরে থাকা কয়েকটি তেল উৎপাদনকারী দেশও তাতে সামিল হয়। সব মিলিয়ে তারা দৈনিক ১২ লক্ষ ব্যারেল উৎপাদন ছাঁটাই করছে। জুনেই সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। 
সৌদির তেলমন্ত্রী খালিদ আল-ফলিহ্‌র দাবি, তিন সপ্তাহ ধরে তেলের দাম কমে যেখানে পৌঁছেছে, তাতে এই ক্ষেত্রে লগ্নি করতে উৎসাহ হারাবে দেশগুলি। তিনি এখানে এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে এসে বলেছেন, ‘‘ওপেকের দিক থেকে উৎপাদন ছাঁটাই চালু রাখার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। তবে তার বাইরে থাকা দেশগুলি কী ভাবছে সেটাও প্রশ্ন।’’ তবে তাঁর আশা, এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে না। এ মাসের শেষেই এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বৈঠক হওয়ার কথা। 
জোগানে রাশ পড়ায় এপ্রিলে তেলের দর ব্যারেলে ৭৫ ডলারে উঠলেও সম্প্রতি তা ৬০ ডলারের নীচে নেমেছিল। সৌদির দাবি ছিল, আমেরিকার মজুত বেশি হওয়ায় চাহিদার চেয়ে এখনও জোগান যথেষ্ট। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মার্কিন-চিন শুল্ক যুদ্ধে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতেই অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে চাহিদাতেও ভাঁটা। তাই তেলের দাম উঠছে না।
সৌদির মন্ত্রীর অবশ্য দাবি, চাহিদা যথেষ্ট। কিন্তু বাণিজ্য-যুদ্ধের শঙ্কায় নেতিবাচক মনোভাব কাজ করছে সংশ্লিষ্ট মহলে। যদিও তাঁর আশা, শেষ পর্যন্ত বাণিজ্য-যুদ্ধ হবে না।