শুল্ক-যুদ্ধের ধাক্কা লেগেছে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতেই। কিন্তু চিনের ক্ষতিতেই আপাতত মশগুল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ভারতীয় সময় গভীর রাতে হোয়াইট হাউসে তিনি জানান, শুল্ক-যুদ্ধে যা লোকসান হওয়ার চিনেরই হচ্ছে। লাভবান হচ্ছে আমেরিকা।

বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ব্যাপারে দরাদরির উদ্দেশ্যে চিনা পণ্যে মোটা আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। এর পরে গত প্রায় এক বছর ধরে দু’দেশই পরস্পরের পণ্যের উপরে কয়েক দফা আমদানি শুল্ক চাপিয়ে এবং বাড়িয়ে চলেছে। যা পুরোদস্তুর শুল্ক-যুদ্ধের চেহারা নিয়েছে। এ দিন ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমাদের কোটি কোটি ডলার মুনাফা হয়েছে। বিপুল ক্ষতি হয়েছে চিনের। সেই সঙ্গে গিয়েছে ৩০ লক্ষ কাজ। বহু সংস্থা চিন ছাড়ছে।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, চিন পাল্টা শুল্ক চাপালেও আমেরিকার তাতে বিশেষ ক্ষতি হয়নি। এই কারণেই এখন আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চিন।

সম্প্রতি আমেরিকায় শিল্প সঙ্কুচিত হয়েছে। উৎপাদন কমেছে কারখানায়। ফলে বিভিন্ন মহলে মাথা তুলেছে মন্দার আশঙ্কা। ট্রাম্প অবশ্য এই ধরনের আলোচনাকে ‘ভুল খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বরং শেয়ার বাজার নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ দিন মার্কিন অর্থ সচিব স্টিভেন মনুচিন জানান, চিন ও ইউরোপের অর্থনীতি ধাক্কা খাওয়ায় আমেরিকা এখন ‘উজ্জ্বল বিন্দু’।

শুল্ক-যুদ্ধের সমাধানের লক্ষ্যে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও লাভ হয়নি। অক্টোবরে ফের আলোচনা শুরু হচ্ছে। কিন্তু তার আগে চিনের উদ্দেশে একাধিক বার কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এই অবস্থায় আলোচনা শুরু হলেও তা কতটা ফলপ্রসূ হবে সে ব্যাপারে সন্দিহান ওয়াকিবহাল মহল।