১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন আয়কর আইন। সেই সঙ্গে বদলাচ্ছে ‘পার্মানেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বর’ বা প্যান কার্ড ব্যবহারের একগুচ্ছ নিয়ম। এত দিন শুধুমাত্র আধার কার্ডের উপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট নথি হাতে পাচ্ছিল আমজনতা। নতুন আর্থিক বছরের (পড়ুন ২০২৬-’২৭) প্রথম দিন থেকে পাল্টে যাবে সেই বিধি। প্যান কার্ডের আবেদনে এ বার থেকে লাগবে কী কী? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
আয়কর দফতর সূত্রে খবর, নয়া আইন মেনে ১ এপ্রিল থেকে প্যান কার্ডের আবেদনে আধারের পাশাপাশি লাগবে সাতটি নথি। সেগুলি হল, জন্মের শংসাপত্র, ভোটার কার্ড বা এপিক (ইলেক্টর্স ফোটো আইডেনটিটি কার্ড), পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, দশম উত্তীর্ণ বোর্ডের শংসাপত্র, ম্যাজ়িস্ট্রেটের হলফনামা এবং অন্যান্য সরকারি নথি। তবে এর সবগুলিই একসঙ্গে লাগবে না।
আরও পড়ুন:
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ১ এপ্রিল থেকে পুরনো ফর্মে প্যান কার্ডের আবেদন কোনও ভাবেই গ্রাহ্য করবে না আয়কর দফতর। আর তাই নতুন ফর্ম সচেতনতার সঙ্গে পূরণ করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। সেখানে বাধ্যতামূলক ভাবে যে নথিগুলির কথা বলা থাকবে, আবেদনকারীকে সেগুলি জমা করতে হবে। বাকি নথি ঐচ্ছিক। অর্থাৎ আবেদনকারী সেটা নাও জমা করতে পারেন।
নতুন প্যান কার্ডে থাকবে না গ্রাহকের নাম। আধার কার্ডে তাঁর যে নাম আছে সেটাই গ্রাহ্য করবে প্রশাসন। ফলে প্যানের আবেদনের সময় আধারের তথ্য সঠিক আছে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে। নইলে প্রথমে আধার কার্ডের তথ্য সংশোধন করে তার পর প্যানের আবেদন করা ভাল।
তবে নতুন নিয়মে পুরনো প্যান কার্ডের বৈধতা শেষ হচ্ছে না। ফলে সেই নম্বর ব্যবহার করে আয়কর রিটার্ন জমা করতে পারবেন করদাতারা। এত দিন পর্যন্ত মূল্যায়ন বছর (অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার) এবং পূর্ববর্তী বছরের (প্রিভিয়াস ইয়ার) উপর ভিত্তি করে করের হিসাব কষত সরকার। ১ এপ্রিল থেকে বাতিল হচ্ছে সেই জটিল প্রক্রিয়া। এই দুইয়ের পরিবর্তে একটি মাত্র কর-বর্ষ বা ট্যাক্স ইয়ার চালু করবে কেন্দ্র।
প্যান কার্ড বাদ দিলে রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে আরও একটি বড় বদল করছে আয়কর দফতর। এ বছর থেকে আর করের হিসাবের জন্য নিয়োগকারী সংস্থার থেকে ফর্ম-১৬ হাতে পাবেন না সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা। সেই জায়গায় ফর্ম-১৩০ হাতে পাবেন তাঁরা।