উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। লম্বা নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ। হাতে এসেছে বুথ ফেরত সমীক্ষা। যাদের প্রায় সবক’টিই বলছে কেন্দ্রে ক্ষমতা ফিরছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। আজ বাজারে পড়বে তার প্রতিফলন। তবে উত্তেজনা বজায় থাকবে যতক্ষণ না বৃহস্পতিবার ভোটের ফল প্রকাশিত হয় ও শেষ হয় নতুন সরকার গঠনের পালা। অর্থাৎ সারা সপ্তাহ জুড়েই আমরা বেশ চঞ্চল দেখব শেয়ার বাজারকে।

টানা পতনের পরে গত সপ্তাহের শেষ দিকে তেমন কোনও কারণ ছাড়াই হঠাৎ বেড়েছে সেনসেক্স ও নিফ্‌টি। এই সময়ে সব মিলিয়ে সেনসেক্স বেড়েছে ৪৬৭.৭৮ অঙ্ক। এই উত্থান বজায় থাকবে, তা মনে করার কারণ নেই। সবই নির্ভর করবে ভোটের ফল কোন দিকে যায় তার উপরে। পাশাপাশি বাজারের নজর থাকবে অর্থনৈতিক বিভিন্ন ঘটনার দিকেও। সব মিলিয়ে কয়েক দিন বাজারে তুমুল অস্থিরতা থাকতে পারে। ফলে লগ্নিকারীদের সতর্ক হয়ে পা ফেলতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রক সেবি ও স্টক এক্সচেঞ্জগুলিও জানিয়েছে, আজ থেকেই লেনদেনের দিকে কড়া নজর রাখা হবে। বৃহস্পতিবার তা আরও বাড়ানো হবে।

এ দিকে এপ্রিলে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি (২.৯২%) কিছুটা বাড়লেও, স্বস্তি দিয়েছে সার্বিক মূল্যবৃদ্ধি (৩.০৭%)। দু’টি হারই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের লক্ষ্যমাত্রার থেকে নীচে থাকায় জুনের ঋণনীতিতে শীর্ষ ব্যাঙ্ক সুদ ফের এক দফা কমাতে পারে বলে অনেকের মত।

 

দেশে ঋণ ও নগদের জোগান কম থাকায় চাহিদা কমছে বাড়ি, গাড়ি ও ভোগ্যপণ্যের মতো নানা শিল্পে। নগদে টান, বিমার খরচ বৃদ্ধি ও চড়া সুদের জেরে গাড়ি বিক্রি দাঁড়িয়েছে দশকে সর্বনিম্ন। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও অনেক শিল্পের ভাগ্য। অনেকের আশা, নতুন সরকার তৈরির পরে বাজারে নগদের জোগান বাড়বে ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে প্রাণ ফিরবে।

সংশয় রয়েছে এ বার দেশে বর্ষা কেমন হবে তা নিয়েও। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল, বর্ষা হতে পারে স্বাভাবিকের কাছাকাছি। কিন্তু সম্প্রতি বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস, তা হবে স্বাভাবিকের থেকে কম। এই খবর ভাঁজ ফেলেছে লগ্নিকারীদের কপালে।

গত সপ্তাহে এইচডিএফস জানিয়েছে, ২০১৮৯-১৯ অর্থবর্ষের শেষ তিন মাসে তাদের নিট মুনাফা বেড়ে হয়েছে ২,৮৬২ কোটি টাকা। সংযুক্তির পরে ভোডাফোন আইডিয়ার লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪,৮৮২ কোটি। হিন্দালকোর নিট মুনাফা নেমেছে ২৩৬ কোটিতে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার মুনাফা হয়েছে ২৫২ কোটি টাকা।

(মতামত ব্যক্তিগত)