আশ্বাস এসেছিল ঠিকই। তবে আশঙ্কা কাটল না।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম রয়েছে ব্যারেলে ১০০ ডলারের আশেপাশে। এর জেরে ভারতে ইতিমধ্যেই বেড়েছে গ্যাস, গাড়ির সিএনজি-র দাম। ফলে মূল্যবৃদ্ধি মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা ক্রমশ তীব্র হলেও, সোমবার তা খারিজ করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সরকারি পরিসংখ্যান জানাল, যুদ্ধ শুরুর আগেই ফেব্রুয়ারিতে দেশে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি পৌঁছেছে ৩.২১ শতাংশে। জানুয়ারিতে ছিল ২.৭৪%। গত মাস থেকে নতুন ভিত্তিবর্ষ (২০২৪) অনুসারে মূল্যবৃদ্ধির হার প্রকাশ করা শুরু করেছে কেন্দ্র। যা জানাচ্ছে, জানুয়ারির ২.১৩ শতাংশের তুলনায় গত মাসে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৩.৪৭% হারে। মূলত এর জেরেই চড়েছে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এখনও পর্যন্ত এই হার রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের লক্ষ্যমাত্রার (২%-৬%) মধ্যে থাকলেও পরিস্থিতি যা, তাতে আগামী দিনে তাদের সুদ কমানোর সম্ভাবনা কার্যত থাকল না।
নির্মলার দাবি ছিল, ‘‘ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ভারতের বাস্কেটের দাম ব্যারেলে ৬৯.০১ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০.১৬ ডলার। কিন্তু দেশে মূল্যবৃদ্ধি রয়েছে নিম্নসীমার কাছাকাছি। এই মুহূর্তে তাই তাতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।’’ তাঁর আরও দাবি, অক্টোবরে ঋণনীতি রিপোর্টে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমান ছিল, অশোধিত তেলের দাম ১০% বাড়লে এবং সেই অনুসারে দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে মূল্যবৃদ্ধি মাথা তুলতে পারে ৩০ বেসিস পয়েন্ট। তবে তা নির্ভর করে টাকার দাম, বিশ্বে চাহিদা-জোগান, সুদের ওঠাপড়া-সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপরে।
পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গ্রাম এবং শহর, দুই জায়গাতেই মূল্যবৃদ্ধি ফেব্রুয়ারিতে ছাড়িয়েছে ৩ শতাংশের সীমা। হয়েছে যথাক্রমে ৩.৩৭% এবং ৩.০২%। পেঁয়াজ, আলু, অড়হড় ডালের মতো কিছু খাদ্যপণ্যের দাম কমলেও, তা বেড়েছে ফুলকপি, টোম্যাটো-সহ অন্যান্য পণ্যে। বিপুল বেড়েছে সোনা-রুপোর গয়নার দাম।
ইক্রার মুখ্য অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ারের মতে, জানুয়াির থেকে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যবৃদ্ধি যে ৪৭ বেসিস পয়েন্ট মাথা তুলেছে, তাতে ৪৪ বেসিস পয়েন্ট ইন্ধন জুগিয়েছে খাদ্য ও পানীয়ের দর বৃদ্ধি। জ্বালানি ও খাদ্য বাদে অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি (কোর ইনফ্লেশন) রয়েছে ৩.৪ শতাংশে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ বেশি দিন ধরে চলতে থাকলে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি আরও চড়ার সম্ভাবনা থাকছে। ফলে আরবিআই এপ্রিলের ঋণনীতিতে সুদ কমাবে না। তবে অনেকের বক্তব্য, ভিত্তিবর্ষ ও মূল্যবৃদ্ধি হিসাবের পদ্ধতি বদলও এই হার বেশি দেখানোর অন্যতম কারণ। এখন দেখার যুদ্ধের কারণে তা কোথায় যায়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)