আচমকাই বিশ্ব বাজারে ফের চড়ছে অশোধিত তেল, রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) কাঁচামাল প্রোপেন-বুটেন। ফলে সেগুলি আমদানির খরচ বেড়েছে ভারতের। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এর জেরে দেশেও তেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমনকি ফেব্রুয়ারিতে বাজেট পেশের দিন থেকে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাও ছিল। তবে সূত্রের খবর, সামনে পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে ভোট। ফলে কেন্দ্র এখন তেল-গ্যাসের দাম বাড়াতে সায় দেবে না। অর্থাৎ নির্বাচনের মুখে বলেই আপাতত হয়তো বেঁচে যাবেন গৃহস্থ গ্রাহক। কিন্তু ওই সূত্র বলছে, দাম চড়ার আশঙ্কা থাকছেই। মাস তিনেকের মধ্যে বাড়িতে রান্নার গ্যাস ফের কিছুটা দামি হতে পারে। যদিও রবিবার থেকে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার ১০০-১২০ টাকা বাড়তে পারে। গত এপ্রিলে বাড়িতে রান্নার গ্যাসের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়েছিল তেল সংস্থাগুলি।
তথ্য বলছে, এক-দেড় মাসের মধ্যে আমেরিকা ও ইরানের অশান্তি প্রোপেন ও বুটেন আমদানির খরচ টনে ৩২.৫ ডলার করে বাড়িয়েছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে আমেরিকা থেকে রান্নার গ্যাস আমদানি। যা তেল সংস্থাগুলির সার্বিক খরচকে ঠেলে তুলেছে। খরচ বাড়াচ্ছে তলানি ছোঁয়া টাকার দামও। সরকারি সাহায্য সত্ত্বেও তাই ক্ষতি বাড়ছে তেল সংস্থার। একই অবস্থা অশোধিত তেলের ঊর্ধ্বমুখী দামে।
অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের মতে, জ্বালানি থেকে সরকার রাজস্বের বড় অংশ পায়। ফলে এর দাম সহজে না কমলেও বাড়তে পারে। তবে সামনে নানা রাজ্যে ভোট বলে এখনই বাড়বে না। একটু পিছিয়ে যেতে পারে। তাঁর দাবি, তেল-গ্যাসের দাম বদল এখন অনেকটাই রাজনৈতিক। বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বারের অর্থনীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান স্মরজিৎ মিত্রের কথায়, “বিশ্ব বাজারে দাম যে ভাবে বাড়ছে, তাতে তেল সংস্থাগুলির এই ক্ষতি দীর্ঘ দিন বহন করা অসম্ভব। যে কারণে খুচরো দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা।’’
এক ঝলকে
বেড়েছে রান্নার গ্যাসের মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের আমদানি খরচ।
ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল পেরিয়েছে ৭০ ডলার।
আমদানি খরচ বৃদ্ধির জের পড়তে পারে খুচরো দামে।
তবে পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে ভোটের কারণে এখন গ্যাসের দাম বৃদ্ধি না পাওয়ার সম্ভাবনা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)