E-Paper

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রথম তিনে থাকার স্বপ্ন দেখালেন মোদী, অশ্বিনী দেখালেন বিপুল লগ্নির স্বপ্ন

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এআই শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের মঞ্চে বৈষ্ণব জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সব ক্ষেত্রেই ভারতে লগ্নি করতে আগ্রহী বিশ্ব বিখ্যাত সংস্থাগুলি। শক্তি থেকে পরিকাঠামো, প্রতিটি জায়গায় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৭
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) ভারত বিশ্বের প্রথম তিনে থাকবে, ইচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। সেই সঙ্গে দাবি, এ দেশে এআই নিয়ে কাজ করার মতো যে পরিমাণ মেধাসম্পদ রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও নেই। যে কারণে এই ক্ষেত্রে ভারতে লগ্নি আসার সম্ভাবনাও বেশি বলে জানান তিনি। আর প্রধানমন্ত্রীর সেই সুর ধরেই কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের বার্তা, আগামী দু’বছরের মধ্যে এআই সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্র মিলিয়ে এ দেশের মাটিতে কমপক্ষে ২০০ কোটি ডলার বা প্রায় ১৮,১৪৫ কোটি টাকার লগ্নি হতে পারে।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এআই শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের মঞ্চে বৈষ্ণব জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সব ক্ষেত্রেই ভারতে লগ্নি করতে আগ্রহী বিশ্ব বিখ্যাত সংস্থাগুলি। শক্তি থেকে পরিকাঠামো, প্রতিটি জায়গায় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আগামী দু’বছরের মধ্যে সেই পরিসর আরও চওড়া হবে। তাঁর কথায়, ‘‘সব সংস্থাই পুঁজি ঢালতে আগ্রহী। তারা জানে এই ক্ষেত্রে এখানে বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিরাট। কিন্তু তার জন্য নিরাপত্তা কিংবা সুরক্ষার সঙ্গে আপস করার কোনও প্রশ্নই নেই।’’

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এআই নিয়ে যখন গোটা বিশ্ব ভয় পাচ্ছিল, তখন ভারত এই ক্ষেত্রে কাজ শুরু করে। তার সুফল আজ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তি মানবসম্পদের গুরুত্ব কমিয়ে দেবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মোদী। তাঁর বার্তা, এআই মানুষের ক্ষমতা বাড়াবে। তার ব্যবহারে সকলের জীবন উন্নত হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত মানুষের হাতেই।

মোদী সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনীর আশ্বাস, যখন কোনও নতুন প্রযুক্তি আসে, তখন শিল্প-সরকার এবং শিক্ষা ব্যবস্থা একযোগে কাজ করে। এআই নিয়ে এখন সেটাই চলছে। ফলে, আরও বহু মানুষ এই সংক্রান্ত কাজে দক্ষ হয়ে গোটাব্যবস্থায় যোগ দিতে পারেন। নতুন আরও চাকরির সুযোগ খুলতে পারে। কিন্তু এই প্রযুক্তির ফলে চাকরি যাওয়ার চিন্তা নেই।

মঙ্গলবার এই সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিরাট লগ্নি ঘোষণা করেছে আদানি গোষ্ঠী। তারা জানিয়েছে, ২০৩৫-এর মধ্যে এআই সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে ১০০ কোটি ডলার অর্থাৎ প্রায় ৯০৭৩ কোটি টাকা পুঁজি ঢালবে। গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি জানান, এই সময়ের মধ্যে দেশ জুড়ে সম্পূর্ণ বিকল্প বিদ্যুৎ দিয়ে চালিত এআই ডেটা সেন্টার তৈরি করতে এই লগ্নি করা হবে। তাকে ঘিরে গড়ে উঠবে আরও ১৫০ কোটি ডলার লগ্নির পরিবেশ। অশ্বিনী জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে ডেটা সেন্টারগুলির ৫১ শতাংশই চলে অপ্রচলিত শক্তি দ্বারা। আদানির মতে, এই ধরনের শক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই দুইয়ের ভারসাম্যে ভারত আগামী দশকে এআই ক্ষেত্রে শীর্ষ স্থান দখল করবে। তাঁর কথায়, ‘‘ভারত শুধু নিজের জন্যই নয়, গোটা বিশ্বের জন্য এই প্রযুক্তি নির্ভর পণ্য তৈরি করবে।’’ উল্লেখ্য, বর্তমানে আদানি গোষ্ঠী গুগ্‌লের সঙ্গে যৌথ ভাবে বিশাখাপত্তনম ও নয়ডাতে দু’টি এআই ডেটা সেন্টার তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর পাশাপাশি, মাইক্রোসফটের সঙ্গে হায়দরাবাদ এবং পুণেতেও এই ধরনের যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার কথাবার্তা চালাচ্ছে তারা।

পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণণ জানান, এআই মডেল বা প্রযুক্তি যাতে পক্ষপাতদুষ্ট না হয়, তার জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে। অন্য দিকে, এ দিন এই সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টই জানিয়েছেন, সাংবাদিকতার উপর এআই-এর প্রভাব সীমিত। কারণ এখনও সাংবাদিকতায় তথ্যনিষ্ঠ এবং সঠিক খবরের দাম রয়েছে। যা এই প্রযুক্তি দ্বারা করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভাল সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তাকে এই নয়া প্রযুক্তি কমিয়ে দিতে পারবে না।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Artificial Intelligence PM Narendra Modi Central Government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy