E-Paper

বাড়ছে তেলের দাম, অগ্নিমূল্য সার, বেড়েই চলেছে সমস্যা, সমাধানসূত্র কত দূর?

দাম বেড়েছে সারেরও। ইউরিয়া বহু চাষির নাগালের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে। ডলারের দামের দ্রুত বৃদ্ধিও অর্থনীতির বড় সমস্যা। সম্প্রতি তা উঠেছিল ৯৭ টাকার কাছে। ভারতীয় মুদ্রাকে আরও পতনের হাত থেকে বাঁচাতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক মোটা অঙ্কের ডলার বাজারে ছাড়লে দাম কিছুটা মাথা নামায়।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ০৭:৫১

—প্রতীকী চিত্র।

মাত্র ন’দিনে তিন কিস্তিতে দাম বাড়ল পেট্রল এবং ডিজেলের। ধাক্কাটা অল্প অল্প করে সইয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা আর কী। অনেকে একে বলছেন নতুন ধরনের এসআইপি, ‘সিস্টেমেটিক ইনক্রিজ় প্ল্যান’। এর পরেও তেল সংস্থাগুলির লোকসান বহাল থাকবে। কারণ, বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল এখনও ১০০ ডলারের উপরে (১০৩.৯৪)। অর্থাৎ দেশে দাম আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে।

দাম বেড়েছে সারেরও। ইউরিয়া বহু চাষির নাগালের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে। ডলারের দামের দ্রুত বৃদ্ধিও অর্থনীতির বড় সমস্যা। সম্প্রতি তা উঠেছিল ৯৭ টাকার কাছে। ভারতীয় মুদ্রাকে আরও পতনের হাত থেকে বাঁচাতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক মোটা অঙ্কের ডলার বাজারে ছাড়লে দাম কিছুটা মাথা নামায়। তবে এই স্বস্তি সাময়িক। আরবিআই ডলার বিক্রি করায় কমছে ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার। ইতিমধ্যেই দাম বেড়েছে কিছু ওষুধ এবং দুধ-সহ নানা অত্যাবশ্যক পণ্যের। একই কারণে যন্ত্রাংশ এবং উপাদানের পিছনে খরচ বাড়ায় আরও একদফা দাম বাড়ছে গাড়ির। দাম বাড়ছে টিভি, ফ্রিজ়ের মতো ভোগ্যপণ্যেরও। পেট্রপণ্যের দাম বৃদ্ধির জেরে ঊর্ধ্বমুখী হবে আরও বহু জিনিস। অর্থাৎ জিএসটি কমার সুবিধার অনেকটাই হারাতে বসেছেন মানুষ।

এ বার এল-নিনোর প্রভাবে বেশি গরম এবং বৃষ্টি কম হওয়ার পূর্বভাস রয়েছে। তাতে যোগ হচ্ছে মাত্রাছাড়া দামের সার। ফলে কৃষি ফলনে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা। যা ঠেলে তুলতে পারে খাদ্যপণ্যের দামকে। কেন্দ্র সারে ভর্তুকি দেবে বলেছে। যা বাজেট ঘাটতিকে চওড়া করতে পারে। ফলন কম হলে গ্রামীণ অর্থনীতি দুর্বল হবে। সেখানে কমবে পণ্যের চাহিদা। কম বিক্রি চাপে ফেলবে অর্থনীতিকে। ভারতেরঅর্থনীতি সম্প্রতি বিশ্বে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছিল। এখন ষষ্ঠতে নেমেছে।

জিনিসের দাম যেভাবে বাড়ছে ও আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তাতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে সুদ বৃদ্ধি ছাড়া রাস্তা থাকবে না। অনুমান, জুনের বৈঠকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বাড়ানো হতে পারে। তা না হলে অগস্টে বাড়তে পারে ৫০ বেসিস পয়েন্ট। ঋণে সুদ বাড়লে শিল্পের পুঁজি জোগাড়ের খরচ বাড়বে। কমতে পারে লাভ। যার ধাক্কা লাগবে শেয়ার বাজারে।

অর্থনীতির সঙ্গে বাজারের সম্পর্ক নিবিড়। ভারত যতই দাবি করুক অর্থনীতির স্বাস্থ্য বহু দেশের তুলনায় ভাল, কিন্তু তা মানতে নারাজ বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের বহু আগে থেকেই তারা এ দেশে টানা শেয়ার বেচছে। গত বছর সেই অঙ্ক ছিল ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা। এ বছর এখনই পেরিয়েছে ২ লক্ষ কোটি। টাকা ও সূচকের স্থানও এশিয়ার বড় দেশগুলির মধ্যে একদম নীচের দিকে।

ভারতীয় বাজারের খারাপ সময় চলছে ২০২৪-এর সেপ্টেম্বরের পর থেকেই। মাঝেমধ্যে সূচক উঠলেও, উত্থান ধরে রাখতে পারেনি। এ দেশের অর্থনীতির প্রতি আস্থা কমায় বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি পুঁজি তুলছে। সেই বাবদ ডলার বেরিয়ে যাওয়ায় পড়ছে টাকা। সূচকও মাথা তুলতে পারছে না। গত ২০ মাসে যাঁরা শেয়ার এবং ফান্ডে লগ্নি করেছেন এবং তা ধরে রেখেছেন, তাঁদের অনেকে এখন হতাশ। আগামী এক বছরেও তেমন আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। যুদ্ধ থামলেই অর্থনীতি পুরনো জায়গায় ফিরবে, এমনটা নয়। যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা সারতে লম্বা সময় নেবে।

এ মাসে নিফ্‌টির দাম ও আয়েরঅনুপাত (পিই রেশিয়ো) আছে ২০.৪-এর আশেপাশে। করোনার বছরে (২০২০-র মে মাসে) তা নেমেছিল ২১.২৪ গুণে। পরের বছর বড় উত্থান হয়। ২০২১-এর মে মাসে পিই রেশিয়োবাড়ে ২৯.২৭ গুণ। ফলে হতাশার কিছু নেই। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের দ্রুত সমাধান সূত্র পাওয়া না গেলে বাজার আরও পড়তে পারে ঠিকই। তবে মনে রাখতে হবে, প্রতিটি বড় পতনে বাছাই করা ভাল শেয়ার কেনা যায়। তা হাতে রাখতে হবে লম্বা মেয়াদে। একই কথা খাটে মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও। এসআইপি থাকলে চালানো উচিত।

(মতামত ব্যক্তিগত)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Economy Petrol Diesel

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy