জমি-বাড়ি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের মামলায় ইডি হেফাজতে থাকা কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ সাব-ইনস্পেক্টর রুহুল আমিন আলির বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে উঠে আসা নথিপত্র এবং তাঁর মোবাইল ফোনের সূত্র যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রের দাবি, ওই তল্লাশি করতে আপাতত যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা যথেষ্ট বিস্ময়কর। শুক্রবার কসবার বাসিন্দা রুহুলের ফ্ল্যাটে তল্লাশি করেছিল ইডি। এ ছাড়াও, শান্তনুর আত্মীয় ও অন্যান্য ঘনিষ্ঠের বাড়িতেও তল্লাশি হয়েছিল।
প্রাথমিক যাচাইয়ের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের দাবি, রুহুলের চারটি আধার কার্ড, চারটি প্যান কার্ড, চারটি ভোটার আইডি কার্ড আছে। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির গিমাগেড়িয়া এলাকায় তাঁর পারিবারিক সদস্যদের মালিকানায় বিএড কলেজ, বেসিক ট্রেনিং কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। এই সব সম্পত্তির পিছনে রুহুলের টাকা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তল্লাশির সময় রুহুল আমিন এবং তাঁর স্ত্রী-র বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তদন্তে যা যা তথ্য মিলবে তার ভিত্তিতে রুহুল এবং তাঁর স্ত্রীকে তলব করা হবে। রবিবার রুহুলকে একাধিক বার ফোন করা হয়েছিল। তিনি ফোন ধরেননি। টেক্সট মেসেজের জবাব দেননি।
ইডি সূত্রের দাবি, পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য রুহুলের বিরুদ্ধে আগেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে অনলাইন প্রতারণা-মামলায় কুখ্যাত ‘জামতাড়া গ্যাং’-এর দুই অভিযুক্তকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল রুহুলের বিরুদ্ধে। সে সময় তাঁকে ‘ক্লোজ়’ করা হলেও অভিযোগ, শান্তনু ঘনিষ্ঠ হওয়ায় শাস্তি দীর্ঘায়িত হয়নি। তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন প্রোমোটার এবং ব্যবসায়ীর সঙ্গেও রুহুলের ঘনিষ্ঠতা ছিল। শান্তনুর নির্দেশেই সেই ঘনিষ্ঠতা। কলকাতা পুলিশের ‘প্রভাবশালী’ অফিসার রুহুলকে নির্বাচনের আগে তাই শেক্সপিয়র সরণি থানা থেকে বদলি করা হয়েছিল।
ইডি-র এক কর্তা বলেন, “ইতিমধ্যেই শান্তনু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের কাছে ওয়েলফেয়ার কমিটির তহবিল তছরুপ-সহ একাধিক দুর্নীতির তদন্ত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই ওই তদন্ত রিপোর্ট ইডিকে জমা দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। প্রাথমিক ভাবে ৫০-৬০ কোটি টাকার দুর্নীতি বলে মনে হচ্ছে। লালবাজারের রিপোর্ট পেলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)