E-Paper

লগ্নির পর তহবিল বাড়াতে জরুরি যত্নই সাফল্যের চাবিকাঠি

লগ্নি করার আগে তহবিল জোগাড় করতে হয়। নিজের ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য যাচাই করে নিতে হয়। খুলতে হয় ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট। ছকতে হয় লগ্নির পরিকল্পনা। এর পর সময় বুঝে এক এক করে পুঁজি ঢালতে হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ১১ মে ২০২৬ ০৯:১৮

— প্রতীকী চিত্র।

বাগানে শুধু গাছ লাগালে হয় না, ভাল ফুল ও ফল পেতে হলে তার নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। একই কথা প্রযোজ্য লগ্নির ক্ষেত্রে। প্রথমে জমি তৈরি করতে হয়। তারপর তাতে সময় বুঝে বীজ (তহবিল) বপন করতে হয়। এর পরে চাই নিয়মিত দেখাশোনা করা। অনেক ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হয়। গাছ তেমন না বাড়লে বা তাতে তেমন ফুল-ফল না হলে সেটিকে তুলে ফেলে যেমন আর একটি লাগাতে হয়, তেমনই বদল চাই লগ্নির জগতে।

লগ্নি করার আগে তহবিল জোগাড় করতে হয়। নিজের ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য যাচাই করে নিতে হয়। খুলতে হয় ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট। ছকতে হয় লগ্নির পরিকল্পনা। এর পর সময় বুঝে এক এক করে পুঁজি ঢালতে হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে। লগ্নির পরে নিয়মিত নজর রাখতে হয় কোনটি কেমন করছে। কোনও তহবিল আশানুরূপ না বাড়লে, তা বিক্রি করে সেই টাকা অন্যত্র খাটাতে হয়। চোখ রাখতে হয় অর্থনীতির খবরে। এ ছাড়া, লগ্নির ক্ষেত্রে মানতে হয় আলাদা নিয়মও। আজ ছোট পরিসরে দেখার চেষ্টা করব, কোন ক্ষেত্রে কী ভাবে লগ্নি পরিচালনা করলে সাফল্য আসতে পারে।

ব্যাঙ্ক এবং ডাকঘরে—

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই এমন মানুষ এখন খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই অ্যাকাউন্টে আয়ের টাকা জমা পড়ে, এখান থেকেই খরচ হয়। ফলে কোনও কারণে তাতে লেনদেন বন্ধ হলে বিপদ। তাই সময়ে প্রতিটি অ্যাকাউন্টে কেওয়াইসি-র নথি জমা দেওয়া উচিত। চেক বই ফুরোনোর আগেই নতুনের জন্য আর্জি জানানো জরুরি। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ব্যাঙ্ক যাতে সুদ থেকে উৎসে কর না কাটে তার জন্য সময়ে ফর্ম ১২১ জমা করতে হয়। নিয়মিত পাসবই আপডেট করাতে হয়। যাঁরা ডিজিটাল লেনদেন করেন, তাঁদের সুরক্ষার স্বার্থে কয়েক মাস পর-পর পাসওয়ার্ড বদলানো দরকার। প্রয়োজনের থেকে বেশি টাকা নামমাত্র সুদের সেভিংস অ্যাকাউন্টে ফেলে রাখা বোকামি। বেশি সুদের জন্যে ‘অটোসুইপ’ বা ‘লিকুইফিক্সড’-এর সুবিধা নেওয়া যেতে পারে। কিছুটা টাকা সরানো যায় লিকুইড ফান্ডে-ও, যেখানে এখন ৬ শতাংশের বেশি রিটার্ন মিলছে।

ডাকঘরের বিভিন্ন প্রকল্পে তিন মাস অন্তর সুদ পুনর্বিবেচনা করা হয়। তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলে অপেক্ষা করতে হয়। কমার আশঙ্কা থাকলে দ্রুত সারতে হয় লগ্নি।

ব্যাঙ্কে স্থায়ী আমানত এবং ডাকঘরের বেশির ভাগ প্রকল্পে এক বার লগ্নি করার পরে সুদ কমলেও, ওই জমার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগের হারেই সুদ মেলে। ব্যাঙ্ক নয় এমন আর্থিক সংস্থায় (এনবিএফসি) টাকা রাখার আগে দেখে নিতে হয় সংস্থাটির মূল্যায়ন উঁচুর দিকে কি না।

শেয়ারে—

শেয়ার বাজারের লগ্নিতে যে সীমাহীন ঝুঁকি থাকে, তা সকলের জানা। তবু বেশি আয়ের সম্ভাবনার জন্য বহু মানুষ ওই দিকে ঝোঁকেন, লক্ষ্য পূরণের নিশ্চয়তা নেই জেনেও। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকিকে বাগে রাখা যায়। যেমন: লগ্নি ছড়িয়ে দিতে হয় একাধিক শিল্প ও পরিষেবার বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারে। দাম যখন তুঙ্গে, তখন আংশিক বা পুরোটা বিক্রি করে লাভ ঘরে তোলা যায়। পরে বাজার নামলে কম দামে ফের লগ্নি করা যেতে পারে। নিয়মিত নজর রাখতে হয় বাজারের ওঠাপড়ার উপরে। খবর রাখতে হয় বিভিন্ন সংস্থার ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলেরও। মূল্যবৃদ্ধির হার, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের সুদ নিয়ে সিদ্ধান্ত, বাজেটের
প্রস্তাব, বিভিন্ন অঞ্চলের ভূ- রাজনৈতিক
পরিস্থিতি, আমদানি-রফতানি, বর্ষার গতিপ্রকৃতির মতো বিষয়ের প্রভাব পড়ে শেয়ারে। ফলে এই সব খবর রাখা জরুরি। শেয়ারে সাধারণত ডিভিডেন্ড মেলে জুন-অক্টোবরের মধ্যে। ফলে নজর রাখতে হবে তা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে কিনা। সংস্থার লাভের ওই অংশের উপরে শেয়ারহোল্ডার হিসেবে অধিকার থাকে লগ্নিকারীর। ফলে তা না পেলে সংস্থাকে চিঠি লিখতে হবে।

মিউচুয়াল ফান্ডে—

লোকসানের ঝুঁকি আছে শেয়ার ভিত্তিক ফান্ডেও। তবে সেটা শেয়ারের তুলনায় কম। ফান্ডের তহবিল নানা রকম শিল্পের বহু শেয়ারে লগ্নি করা হয় বলে ঝুঁকি এক জায়গায় আটকে থাকে না। হাইব্রিড ফান্ড এবং ঋণপত্র ভিত্তিক ফান্ডে ঝুঁকি আরও কম। হাইব্রিড
ফান্ডের তহবিল শেয়ার ও ঋণপত্রে খাটে। চঞ্চল বাজারে শেয়ার ভিত্তিক ফান্ডে ঝুঁকি বাগে রাখা যায় পুরো টাকা একলপ্তে না ঢেলে যদি মাসিক কিস্তিতে লগ্নি করা যায়। যা সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি বলে পরিচিত। বিশেষ কারণে সূচকে আচমকা বড় পতন হলে, তার সুযোগ নিতে এক বা কয়েকটি কিস্তিতে লগ্নি সম্ভব। এমন কৌশলও নেওয়া যায় যে, সূচক নির্দিষ্ট মাত্রার নীচে নামলেই লগ্নি হবে তহবিলের একাংশ। অর্থাৎ নজর রাখতে হবে বাজারের ওঠাপড়ায়।

শেয়ার এবং শেয়ার ভিত্তিক ফান্ড এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে রেখে বিক্রি করে যদি লাভ হয় (দীর্ঘ মেয়াদি মূলধনী লাভ), তার প্রথম ১.২৫ লক্ষ টাকা থাকে পুরো করমুক্ত। কোনও বছরে লাভ বেশি হলে তার উপর কর দিতে হয় ১২.৫%। অর্থাৎ এই কথা মাথায় রেখে প্রতি বছর শেয়ার ও ফান্ড
এমন ভাবে বেচে লাভ ঘরে তুলতে হবে, যাতে ন্যূনতম কর দিতে হয়।

(মতামত ব্যক্তিগত)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

investments Financial Tips

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy