অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্তরে অনিশ্চয়তা থাকলে শেয়ার বাজার পড়াটাই দস্তুর। কেন্দ্রে কে সরকার গড়বে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছেও। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও শুক্রবার সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনে ৫৩৭.২৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স। বাজার সূত্রের খবর, বস্তুত অনিশ্চয়তা থেকে রেহাই পেতেই এ দিন লগ্নিকারীদের একটা অংশ শেয়ার কিনতে থাকেন। 

ঠিক কী ভাবে? 

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, আগামী ৩০ মে আগাম লেনদেনের সেটেলমেন্টের দিন। যে সব লগ্নিকারী হাতে শেয়ার না-থাকা সত্ত্বেও তা বিক্রি করে রেখেছেন, তাঁরাই এ দিন শেয়ার কিনতে নেমে পড়েন। কিন্তু প্রশ্ন, এত আগে কেন? 

কাল, রবিবার ভোট গ্রহণের শেষ পর্ব। সে দিনই বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল জানাতে শুরু করবে সংবাদ মাধ্যমগুলি। তার পরে সোমবার ফের বাজার খুলবে। বৃহস্পতিবার জানা যাবে ভোটের ফলাফল। সোমবার থেকে সারা সপ্তাহে বাজারের হাল কী দাঁড়াবে তা নিয়েই শেয়ার বাজারে অনিশ্চয়তা তুঙ্গে উঠেছে। সোমবার থেকে বাজার দ্রুত পড়তেও পারে, আবার উঠতেও পারে। এই অবস্থায় যে লগ্নিকারীরা হাতে শেয়ার না-থাকা সত্ত্বেও আগাম লেনদেনে বিক্রি করে রেখেছেন তাঁরা ঝুঁকি নিতে চাননি। 

এ দিন সেনসেক্স ৫৩৭.২৯ পয়েন্ট উঠে শেষ হয় ৩৭,৯৩০.৭৭ অঙ্কে। অন্য দিকে, নিফ্‌টি আগের দিনের তুলনায় ১৫০.০৫ পয়েন্ট বেড়ে থামে ১১,৪০৭.১৫ অঙ্কে। তবে এ দিন বাজার কিন্তু সার্বিক ভাবে বাড়েনি। মূলত সূচকের অন্তর্গত কিছু সংস্থার শেয়ারের দামই বেশি বেড়েছে। অথচ বেশ কয়েকটি বিষয় এ দিন বাজারের অনুকূল ছিল না। যেমন, ডলারের নিরিখে টাকার দাম পড়েছে। ডলার আগের দিনের থেকে ২০ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০.২৩ টাকা। অশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এই অবস্থায় পড়তি বাজারে লগ্নিকারীদের শেয়ার কেনাও সূচকের উত্থানের আরও এক কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞেরই মত, কেন্দ্রে স্থায়ী সরকার গঠিতে হলে প্রথম কয়েক দিন বাজার দ্রুত চাঙ্গা হবে। আর তা না হলে সূচকের মুখ উপরের দিকে ওঠার সম্ভাবনা কম। তবে একটা ব্যাপারে অনেকেই এক মত যে, নতুন সরকার যে-ই গঠন করুক না কেন, তার প্রাথমিক জের কেটে গেলে সূচকের গতি ঠিক করে দেবে মূল্যবৃদ্ধি, শিল্পোৎপাদন, বাণিজ্য ঘাটতির মতো শেয়ার বাজারের মৌলিক উপাদানগুলি। যার কয়েকটির অবস্থা এই মুহূর্তে তেমন উৎসাহব্যাঞ্জক নয়। 

আজ বাজার 

সেনসেক্স উঠেছে ৫৩৭.২৯। নিফ্‌টি ১৫০.০৫ অঙ্ক। 

কেন উত্থান 

  • শেষ পর্বের ভোট রবিবার। 
  • তার পরেই বুথ ফেরত সমীক্ষা। 
  • বৃহস্পতিবার ফলাফল। 
  • পরের সপ্তাহে সূচকের গতিবিধি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। 
  • ৩০ মে আগাম লেনদেনের সেটেলমেন্ট। 
  • ফলে ঝুঁকি নিতে চাননি লগ্নিকারীরা। 
  • হাতে শেয়ার না-থাকা সত্ত্বেও যাঁরা বিক্রি করে রেখেছেন, এ দিন শেয়ার কিনেছেন তাঁরা। 
  • পড়তি বাজারে শেয়ার ক্রয়।