বাজেটের পর থেকে টানা পড়ছিল ভারতীয় শেয়ার বাজার। বৃহস্পতিবার সেই বাজারই যেন হঠাৎ প্রাণ ফিরে পেল। বৃহস্পতি ও শুক্রবার মিলিয়ে প্রায় ৯০০ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স। কারণ মূলত দু’টি খবর। প্রথমত, এক শ্রেণির বিদেশি লগ্নিকারীর উপর থেকে বাজেটে প্রস্তাবিত সারচার্জ প্রত্যাহার করা হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিতে চলেছে কেন্দ্র। বস্তুত, ঝিমিয়ে থাকা শিল্পকে আশ্বস্ত করতে প্রায় রোজই কোনও না কোনও ক্ষেত্রের সঙ্গে বৈঠক করছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ঘুরে দাঁড়াতে তাঁর কাছে ১ লক্ষ কোটি টাকার ত্রাণ প্রকল্পও চেয়েছে শিল্প। তাই এখন কেন্দ্রের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, জুলাইয়ে শেয়ারের দাম অনেকটা নেমে আসে। বহু মানুষ শেয়ার ছেড়ে ইকুইটি ফান্ডের দিকে ঝুঁকতে থাকেন। গত মাসে ওই ফান্ডগুলিতে নিট লগ্নি হয় ৮,০৯২ কোটি টাকা। ফান্ডগুলির মোট সম্পদের পরিমাণ ছাড়ায় ২৪.৫ লক্ষ কোটি। শেয়ার বাজার খানিক অক্সিজেন ফিরে পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারেও।

অন্য দিকে, প্রথা ভেঙে এ বার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ৩৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ ছাঁটাই করেছে। টানা চার বার সব মিলিয়ে রেপো রেট কমানো হয়েছে ১১০ বেসিস পয়েন্ট। ফলে যে হারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক স্বল্প মেয়াদে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে টাকা ধার দেয়, তা নেমে এসেছে ৫.৪ শতাংশে। সেই পদক্ষেপ অবশ্য তাৎক্ষণিক ভাবে খুশি করতে পারেনি শেয়ার বাজারকে। আরবিআই দেশের বৃদ্ধির পূর্বাভাস ছাঁটাই করায় ঋণনীতি ঘোষণার দিনই গত বুধবার ২৮৬ পয়েন্ট নামে সেনসেক্স। সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনায় তা ঘুরে দাঁড়ায় পরের দিন।

সুদ কমার প্রভাব 
• রিজার্ভ ব্যাঙ্কের টানা চারটি ঋণনীতিতে সুদ কমেছে ১১০ বেসিস পয়েন্ট। 
• বাড়ি-গাড়ি ঋণে সুদ কমাচ্ছে ব্যাঙ্ক। তবে তা দাবির তুলনায় অনেক কম। 
• যদিও জমায় সুদ আরও কমার আশঙ্কায় সুদ নির্ভর মানুষ। 
• অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে অনেকে ঝুঁকছেন সোনার দিকে। 
 

শিল্পের চাহিদা 
• সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়িয়ে বাজারে নগদের জোগান বৃদ্ধি। 
• সাময়িক ভাবে হলেও জিএসটি কমানো। 
• ১ লক্ষ কোটি টাকার ত্রাণ।

রেপো রেট এতটা কমায় অবশ্য কপালে ভাঁজ পড়েছে সুদ নির্ভর মানুষের। এর প্রভাবে জমায় সুদ কমতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

(মতামত ব্যক্তিগত)