Advertisement
E-Paper

চা শিল্পে শুল্ক ছাড়ের সম্ভাবনা বাজেটে

চা শিল্পের জন্য শুল্ক ছাড়—অরুণ জেটলির বাজেটে এমনটাই সুখবর থাকতে পারে উত্তরবঙ্গের জন্য। অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, চা শিল্পকে চাঙ্গা করতে ওই শিল্পের জন্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রের উপর আমদানি শুল্ক কমানো হতে পারে অরুণ জেটলির বাজেটে। অনেকদিন ধরেই শিল্পমহলের তরফে এই দাবি উঠেছে। চা শিল্পের প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রের আমদানির জন্য এখন ১০ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক দিতে হয়। তা কমলে চা শিল্প লাভবান হবে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৫৫

চা শিল্পের জন্য শুল্ক ছাড়—অরুণ জেটলির বাজেটে এমনটাই সুখবর থাকতে পারে উত্তরবঙ্গের জন্য।

অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, চা শিল্পকে চাঙ্গা করতে ওই শিল্পের জন্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রের উপর আমদানি শুল্ক কমানো হতে পারে অরুণ জেটলির বাজেটে।

অনেকদিন ধরেই শিল্পমহলের তরফে এই দাবি উঠেছে। চা শিল্পের প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রের আমদানির জন্য এখন ১০ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক দিতে হয়। তা কমলে চা শিল্প লাভবান হবে। শিল্পমহলের এই দাবি মেনে নেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রককে অনুরোধ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রকও। শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রকের বক্তব্য, এই ধরনের যন্ত্রপাতি এ দেশে অল্পই তৈরি হয়। মূলত চিন, জাপান ও জার্মানি থেকেই এ সব যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়। এ ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তিরও দরকার। আমদানি শুল্ক কমলে শিল্পমহল সবদিক থেকেই লাভবান হবে। একদিকে যেমন চা-এর উৎপাদন বাড়বে, তেমনই রফতানির ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে।

উত্তরবঙ্গের চা শিল্পকে চাঙ্গা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র দাবি তুলেছেন, চা নিলাম ও চা পরিবহণের উপর যে পরিষেবা কর আদায় করা হয়, তা-ও তুলে দেওয়া হোক। বাজেটের প্রস্তুতি পর্বে সব রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন অরুণ জেটলি। সেখানে অমিতবাবু এই দাবি তোলেন। এ ছাড়া চা শিল্পের জন্য নয় দফা প্যাকেজেরও দাবি তুলেছেন অমিতবাবু। রাজ্য সরকারের দাবি হল, রুগ্ণ চা শিল্পের জন্য কেন্দ্রীয় শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রক ও টি বোর্ড এই পদক্ষেপ করুক।

কী চাইছে রাজ্য সরকার?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দাবি, ২০০৭-এ যেমন বন্ধ চা বাগানের জন্য বিশেষ প্যাকেজ তৈরি হয়েছিল, এ বারও নাবার্ড ও বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে আলোচনা করে একই ধরনের প্যাকেজের ঘোষণা হোক। তারপরে ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণ পুনর্গঠনের ব্যবস্থা হোক। পুঁজির জন্য নেওয়া ঋণে সুদের উপর ভর্তুকি দেওয়া হোক। চা সংস্থাগুলি যাতে কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড সংস্থায় ঠিকমতো জমা করে, না নিশ্চিত করুক শ্রম মন্ত্রক। চা বাগানের কর্মীদের কথা ভেবে ১৯৫১ সালের বাগিচা শ্রমিক আইনে সংশোধন করা হোক। একশো দিনের কাজ, শিক্ষার অধিকার আইন, খাদ্য সুরক্ষা আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই আইনটি সাজানো হোক।

অর্থ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, সব দাবি এক সঙ্গে বাজেটে পূরণ করা সম্ভব হবে না। তবে বাজেটে না হলেও পরবর্তী কালে আলাদা ভাবে শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রক বেশ কিছু দাবি বিবেচনা করবে। চা শিল্পকে চাঙ্গা করা যে প্রয়োজন, তার পক্ষে এখন সবথেকে বড় যুক্তি হল চা-এর রফতানি। এমনিতেই বিশ্ব বাজারে মন্দার জেরে ভারতের রফতানি কমছে। তাই চা-এর মতো রফতানিযোগ্য পণ্য গুরুত্বপূর্ণ। গত অর্থবর্ষে এ দেশে ১২০০ কোটি কিলোগ্রাম চা উৎপন্ন হয়। গোটা বিশ্বের ২৪ শতাংশ চা এ দেশে উৎপাদন হয়। তার মধ্যে ২০ কোটি কিলোগ্রাম চা বিদেশে রফতানি করা হয়। রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের ভাগ মাত্র ১১ শতাংশ। রফতানির এই হার বাড়াতে চাইছে ভারত। সেক্ষেত্রে চিন, শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলি ভারতের প্রতিযোগী।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy