Advertisement
০৫ ডিসেম্বর ২০২২

ঋণ খেলাপে নজর বাড়াচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

ব্যাঙ্কের হিসেবের খাতায় জমে থাকা পাহাড় প্রমাণ ঋণ বাগে আনতে তৎপর আরবিআই। আর, সেই লক্ষ্যেই নিজস্ব নজরদারি কমিটি গড়ছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক, যাতে এই সংক্রান্ত অর্ডিনান্স কার্যকর করে রাশ টানা যায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার অনুৎপাদক সম্পদে।

সংবাদ সংস্থা
মুম্বই শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০১৭ ০৩:২৩
Share: Save:

ব্যাঙ্কের হিসেবের খাতায় জমে থাকা পাহাড় প্রমাণ ঋণ বাগে আনতে তৎপর আরবিআই। আর, সেই লক্ষ্যেই নিজস্ব নজরদারি কমিটি গড়ছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক, যাতে এই সংক্রান্ত অর্ডিনান্স কার্যকর করে রাশ টানা যায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার অনুৎপাদক সম্পদে।

Advertisement

ব্যাঙ্ক মালিকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ)-এর আওতায় আগেই তৈরি হওয়া এই কমিটির সদস্য সংখ্যা বর্তমানে দুই। এই ‘ওভারসাইট কমিটি’ বা ওসি ঢেলে সাজার অঙ্গ হিসেবেই তার সদস্য বাড়াচ্ছে আরবিআই, যাতে তার অধীনে বিভিন্ন বেঞ্চ গড়া সম্ভব হয়। তাদের হাতেই আলাদা আলাদা করে ঋণ খেলাপি বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রের দায়িত্ব বর্তাবে বলে সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আরবিআই। ওই দু’জনকে বহাল রেখেই আনা হবে বাড়তি সদস্য।

প্রসঙ্গত, অনুৎপাদক সম্পদে লাগাম পরাতে সম্প্রতি ব্যাঙ্কিং আইন (সংশোধন) অর্ডিনান্স, ২০১৭ জারি করেছে কেন্দ্র, যা আরবিআইয়েরই হাত শক্ত করেছে। নতুন এই অর্ডিনান্সের বলে অনুৎপাদক সম্পদ আদায়ের জন্য চটজলদি দেউলিয়া আইনের (ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোড, ২০১৬) প্রয়োগ করতে পারবে ব্যাঙ্কগুলি। কী ভাবে তা করা যাবে, তারই রূপরেখা এ দিন জানিয়েছে আরবিআই। শীর্ষ ব্যাঙ্ক চায়, এই সব ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ তৈরি করতে। কারণ এই অর্ডিনান্সের আওতায় দেউলিয়া আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশ বিভিন্ন ব্যাঙ্ককে দেবে শীর্ষ ব্যাঙ্কই।

বড় মাপের অনাদায়ী ঋণ সম্পর্কে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্যাঙ্কের কাছে তথ্য তলব করেছে আরবিআই। এ দিন তারা আরও জানিয়েছে, এই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সংস্থার ক্রেডিট রেটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা মাপতে মূল্যায়ন সংস্থাগুলির এই রেটিং যাতে নিরপেক্ষ থাকে, তার উপরও জোর দিয়েছে আরবিআই। ‘মূল্যায়ন বিক্রি’ হওয়া আটকাতে আরবিআই নিজেই এ ধরনের রেটিং করার কথা ভাবছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, অনুৎপাদক সম্পদ খাতে আর্থিক সংস্থান করতে গিয়ে লোকসানের বহর বেড়েছে ব্যাঙ্কগুলিতে। এ অবস্থায় অনুৎপাদক সম্পদ দ্রুত উদ্ধারের জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপ করেছে। ঋণের বোঝা বাড়ায় ব্যাঙ্কগুলি শিল্পে নতুন ঋণ দিতেও অনীহা বোধ করছে। যার জেরে নতুন লগ্নিতে সমস্যা হচ্ছে। হোঁচট খাচ্ছে আর্থিক বৃদ্ধি।

আরবিআই অবশ্য জানিয়েছে, বাড়তি দায়িত্ব পালনে তাদের অবশ্যই ব্যাঙ্ক, সম্পদ পুনর্গঠন সংস্থা, আর্থিক সংস্থা, দেউলিয়া পর্যদ ইত্যাদির সহযোগিতা জরুরি। এদের সঙ্গে আরবিআই নিয়মিত বৈঠকও করবে।

যে-সব ঋণ শোধ হওয়ার ব্যাপারে ঝুঁকি বেশি, তা সামলাতে আগেই স্কিম ফর সাসটেনেব্‌ল স্ট্রাকচারকিং অব স্ট্রেস্‌ড অ্যাসেটস (এস৪এ) এনেছিল আরবিআই। নতুন কাঠামোয় ওই প্রকল্পের আওতা বাড়িয়ে তা আরও ভাল ভাবে রূপায়ণ করতে চায় তারা।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.