শুধু ভারতই নয়, ট্রাম্প-আতঙ্কে আক্রান্ত সারা বিশ্বের শেয়ার বাজার। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে জনমত সমীক্ষায় প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিন্টনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভোটের ব্যবধান গত কয়েক দিনে যত কমছিল, ততই দুশ্চিন্তা বাড়ছিল শেয়ার বাজারে। বুধবার এক ধাক্কায় সেনসেক্স পড়ল ৩৪৯.৩৯ পয়েন্ট। কারণ মঙ্গলবারের সমীক্ষার ইঙ্গিত, ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিলারিকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন রিপাবলিকান দলের ট্রাম্প। ফলে বিশ্ব জুড়েই পড়েছে বাজার। যার প্রভাব এসেছে ভারতে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আরও পড়তে পারে সূচক।
সমীক্ষায় হিলারির সঙ্গে ভোটের ব্যবধান কমতে থাকায় এত দিন কিছুটা থমকে ছিল শেয়ার বাজার। হিলারিকে ট্রাম্পের পেছনে ফেলার ইঙ্গিতের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় সেনসেক্স যেমন ৩৪৯ পয়েন্ট পড়ে থিতু হয় ২৭,৫২৭.২২ অঙ্কে, তেমনই নিফ্টি ১১২.২৫ পয়েন্ট পড়ে দাঁড়ায় ৮,৫১৪ অঙ্কে।
ট্রাম্পে ভয় কেন? সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, ট্রাম্প প্রচার পর্বে যে-সব কথা বলেছেন, তা থেকে স্পষ্ট যে, মার্কিনদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘আউটসোর্সিং’-এ কোপ বসাতে পারেন তিনি। এ দিকে এই আউটসোর্সিংয়ের দৌলতেই ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির রমরমা আমেরিকায়।
তা ছাড়া সকলেরই ধারণা, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে আমেরিকার বিদেশ নীতি-সহ বহু ক্ষেত্রে বড় মাপের বদল আসবে। যার সঠিক রূপ নিয়েই চিন্তায় রয়েছে বিশ্বের রাজনৈতিক মহল। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তাই আতঙ্কিত লগ্নিকারীরাও। যার ছায়া শেয়ার বাজারেও পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অনেকেই।
•সেনসেক্স পড়ল ৩৪৯, নিফ্টি ১১২
•এশীয় বাজার দেড় মাসের তলানিতে
•ইউরোপেও নামল সূচক
•খোলার পরে পতনের কবলে ওয়াল স্ট্রিট
আতঙ্কিত বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলিও। এ দিন তারা ভারতের বাজারে শেয়ার বেচেছে ৬৬৭ কোটি টাকার। তবে আরও বড় পতন রুখে দিয়েছে ভারতীয় আর্থিক সংস্থাগুলির পড়তি বাজারে ৪০০ কোটি টাকার লগ্নি।
এশিয়া ও ইউরোপের প্রায় সব শেয়ার বাজারের মুখই এ দিন ছিল নীচের দিকে। এশিয়ার বাজারগুলিতে সূচক গত দেড় মাসে সব থেকে নীচে নেমেছে। নিক্কেই পড়েছে ১.৭৬%, হ্যাংসেং ১.৪৫%, সংহাই কম্পোজিট ০.৬৩%। পড়েছে ইউরোপের বাজারও। মার্কিন বাজারও খোলার পরে পড়েছে।
শেয়ারে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় সোনায় লগ্নির দিকেই ঝুঁকছেন লগ্নিকারীরা। ভোটের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হওয়ার আগে আগামী এক সপ্তাহে সূচক আরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের অনেকেই। স্টুয়ার্ট সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান কমল পারেখ বলেন, ‘‘নিফ্টি আরও শ’তিনেক এবং সেনসেক্স ৮০০ পয়েন্টের মতো পড়তে পারে।’’ তবে ট্রাম্প সম্পর্কে যে-ভয়টা করা হচ্ছে তা শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তব রূপ নেবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই সংশয় রয়েছে। কমলবাবু বলেন, ‘‘ট্রাম্প চাইলেও আউটসোর্সিংয়ে কতটা নিষেধাজ্ঞা আনতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, আমেরিকার শিল্প মহল আউটসোর্সিংয়ের পক্ষে।’’
সুদ অপরিবর্তিত রাখল ফেড। আপাতত সুদ বাড়াল না মার্কিন শীর্ষ ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ। তবে ডিসেম্বরে তা বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।