যুদ্ধ পরিস্থিতি বহাল পশ্চিম এশিয়ায়। আর তার জেরে সমস্যা বেড়ে চলছে তেল ও গ্যাসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিমধ্যেই বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে শুরু করেছে তেল সংস্থাগুলি। সংঘাত বহাল থাকলে আগামী দিনে তা আরও চওড়া হবে। একাংশের মতে, বিশ্ব জুড়ে যে ভাবে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে রয়েছে, অবিলম্বে তার বদল প্রয়োজন। না হলে দিন দশেক বাদে সঙ্কট আরও বাড়বে। যদিও সরকারের একটি সূত্র দাবি করছে, তেল ও গ্যাস নিয়ে সমস্যা নেই। হাতে যথেষ্ট পরিমাণ মজুত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। ফলে এই নিয়ে অযথা আতঙ্কের কিছু নেই।
বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলির দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি এর মধ্যেই লিটার প্রতি ২০ টাকা করে ক্ষতির মুখে পড়ছে। অর্থাৎ অশোধিত তেল কিনে এনে শোধন করে বাজারে বিক্রি করতে যা খরচ হচ্ছে, তার থেকে অনেক নীচে নেমে গিয়েছে প্রতি লিটার তেল বিক্রি থেকে আয়। যার মূল কারণ, ডলারের তুলনায় টাকার দামের ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন এবং বিশ্ব বাজারে চড়তে থাকা অশোধিত তেলের দর। এ দিন ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেল ৮৪ ডলারের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করেছে।
বিশ্লেষকদের পরিসংখ্যানে প্রকাশ, প্রতি লিটার পেট্রল কিংবা ডিজ়েল বিক্রি করে মোটামুটি ৩.৫০ টাকা থেকে ৪.৫০ টাকা পর্যন্ত লাভ করে দেশের তেল সংস্থাগুলি। তবে প্রতি ব্যারেল এক ডলার বাড়লে তাদের মুনাফা কমে ০.৫০-০.৫৫ টাকা। গত কয়েক দিন ধরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ক্ষতির অঙ্ক প্রতি দিন বাড়ছে। সরকারি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, সমস্যা যাতে না হয় সে জন্য বিকল্পের খোঁজ চলেছে। এমনকি এই নিয়ে আমেরিকার সঙ্গেও নিয়মিত আলোচনা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। যাতে ভারত জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে সমস্যায় না পড়ে।
তেলের পাশাপাশি সিঁদুরে মেঘ গ্যাসের জোগানেও। দেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা গেল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা পেট্রোনেটের গ্যাস পাচ্ছে না গত ৪ মার্চ থেকে। ফলে দেশের বাজারে খানিকটা হলেও গ্যাসের জোগান কমানো হয়েছে। তবে দেশে এখনও যথেষ্ট গ্যাসের সরবরাহ আছে বলেই জানিয়েছে গেল। কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, গ্যাস কেনার জন্য অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার সঙ্গে কথা চালানো হচ্ছে। পেট্রোনেটের মাধ্যমে এই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বটে। কিন্তু হাতে যথেষ্ট মজুত থাকায় সমস্যা হবে না।
প্রাক্তন গেল কর্তা তথা বর্তমানে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানির সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায় যদিও মনে করছেন, যা পরিস্থিতি তাতে এখনই কোনও সমস্যা হবে না। চাপে পড়বেন না গৃহস্থ। পরিবহণেরও ভাবনার কিছু নেই। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি সপ্তাহ তিনেক চললে কিংবা এ ভাবেই তেল ভরা জাহাজ আটকে রইলে ভাবতে হবে। তাঁর আশা, আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি হয়তো স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কারণ বিশ্বের বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে আমেরিকাকে এই পদক্ষেপ করতেই হবে। বিশেষত সেই বাণিজ্যে যেহেতু পশ্চিম এশিয়ার বড়সড় ভূমিকা রয়েছে। রান্নার গ্যাসের সমস্যা থাকলেও এখনই বাড়িতে সিলিন্ডার পেতে সমস্যা হবে না, বলছে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকারীরাও। ‘অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স ফেডারেশন’-এর সহ সভাপতি বিজন বিশ্বাস বলেন, ‘‘এখনও সে রকম সমস্যা তৈরি হয়নি। তবে আমাদের তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছে তেল সংস্থাগুলি। আমরাও সে কথা মাথায় রেখেই এগোচ্ছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)