পাটের নতুন ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) বাড়িয়ে কুইন্টালে ৫৯২৫ টাকা করতে সায় দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। জুলাই থেকে ২০২৭-এর জুন পর্যন্ত ২০২৬-২৭ সালের পাট মরসুমে তা বলবৎ হবে। নতুন এমএসপি চলতি মরসুমের থেকে ২৭৫ টাকা বেশি। সংশ্লিষ্ট মহল অবশ্য মনে করাচ্ছে, চলতি মরসুমে (২০২৫-২৬) সহায়ক মূল্যের থেকে বাজারে পাটের দাম ছিল কয়েক গুণ বেশি।
কেন্দ্র জানিয়েছে, পাট চাষিদের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ। এই দামে তাঁরা পাট বিক্রি করলে মুনাফা হবে গড়ে ৬১.৮%। চাষিদের দাবি, তাঁরা যেখানে বেশি দাম পাবেন সেখানে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করবেন। আর চট শিল্পের একাংশের মতে, এই ঘোষণা সরকারের রাজনৈতিক পদক্ষেপ। যাতে দেখানো যায়, সরকার চাষিদের জন্য ভাবছে। তাদের বার্তা, এমএসপি স্থির করার থেকেও জরুরি এখন বাজারে পাটের মজুত বাড়ানোর ব্যবস্থা। যা না থাকায় বহু চটকল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
কোনও মরসুমে পাটের দাম তলানিতে ঠেকলে চাষিরা যাতে লোকসানে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে তাঁদের কাছ থেকে পাট কিনে নেয়। এই ভার জুট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (জেসিআই)। তবে অনেক সময়েই এমএসপির থেকে বাজারে পাটের দাম বেশি থাকে। তখন চাষিরা তাঁদের উৎপাদন বাজারে বেচেন। এমএসপি অর্থহীন হয়ে পড়ে। বনগাঁর পাট চাষি কালিপদ মণ্ডল বলেন, ‘‘বাজারে পাটের দাম কী থাকে, তার উপর নির্ভর করছে কোথায় তা বিক্রি করব।’’
চটকল মালিকদের বক্তব্য, এমএসপি পাট বাজারের সমস্যা দূর করতে পারে না। আগে জেসিআইয়ের পাট কেনার ক্ষমতা বাড়ানো উচিত। তা না বাড়িয়ে অথবা পাটের আকালের সময় সমস্যা সামাল দিতে আপৎকালীন মজুত তৈরি না করে শুধু সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে যাওয়া অর্থহীন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)