সস্তার বিদেশি ইস্পাতে বাজার ছেয়ে যাওয়া রুখতে চলতি মাসেই তার আমদানির ন্যূনতম মূল্য বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। সেই রক্ষাকবচের দৌলতে সম্প্রতি পণ্যের দাম কিছুটা বাড়িয়েছে দেশের ইস্পাত সংস্থাগুলি। কিন্তু তারপরেও জোগানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চাহিদা সে ভাবে না-বাড়ায় আয়ের অঙ্কে বৃদ্ধির মুখ দেখতে হিমসিম খাচ্ছে তারা।
খুচরো বিপণিতে পণ্যের দাম ৩% বাড়িয়েছে জেএসডব্লিউ স্টিল। ৩ থেকে ৫% দর বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে টাটা স্টিল। জিন্দল স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার তা চড়িয়েছে প্রায় ৭%। মার্চের মধ্যে একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে এসার স্টিলও। কিন্তু তা সত্ত্বেও চাহিদায় ভাটার কারণে আয় বাড়াতে মুশকিলে পড়তে হচ্ছে ইস্পাত সংস্থাগুলিকে।
বিশ্বের প্রধান বাজারগুলির মধ্যে ভারতই একমাত্র, যেখানে এখনও ইস্পাতের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সমস্যা হল, জোগানের তুলনায় তা অনেকখানি পিছিয়ে। জেএসডব্লিউ স্টিলের জয়েন্ট এমডি শেষাগিরি রাওয়ের মতে, আগামী তিন-চার মাসে ইস্পাতের উৎপাদন বাড়ার কথা প্রায় ৯%। কিন্তু চাহিদা বাড়বে টেনেটুনে ৪.২%। বাড়তি জোগানের এই বাজারে দর আর কতটা বাড়ানো যাবে, তা নিয়ে সন্দিহান তাঁরা।
বিশ্বজুড়ে ইস্পাতের চাহিদা তলানিতে ঠেকায় সস্তার পণ্যে বাজার ছেয়ে দিচ্ছে চিনা সংস্থাগুলি। অভিযোগ, উৎপাদন খরচের থেকেও কমে পণ্য বেচছে তারা। যে কারণে এ দিন চিনা সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই সমস্যায় ভুগছে ভারতের বাজারও। তার উপর সস্তার পণ্য আসছে রাশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে। এই সমস্যা থেকে সুরাহা দিতেই ১৭৩টি ইস্পাত পণ্যের ন্যূনতম আমদানি মূল্য প্রতি টনে ৩৪১ থেকে ৭৫২ ডলারে বেঁধেছে কেন্দ্র। কিন্তু চাহিদা চাঙ্গা না হওয়ায় তাতেও আয় বাড়াতে নাভিশ্বাস ইস্পাত সংস্থাগুলির।