ফের সরাসরি কমলো পাইকারি বাজার দর। সোমবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী মে মাসে খাদ্য সামগ্রী, জ্বালানি এবং শিল্প পণ্যের কম দামের হাত ধরে দর সার্বিক ভাবে নেমেছে আরও ২.৩৬%। এই নিয়ে টানা সাত মাস পণ্য মূল্য তলানিতে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে সুদ আরও কমিয়ে আনার জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে আর্জি জানিয়েছে শিল্পমহল। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বর্ষা কতটা স্বাভাবিক হয়, তার উপরই নির্ভর করবে, জিনিসপত্রের দাম কমই থাকবে কি না।
বস্তুত পাইকারি মূল্য সূচকের ভিত্তিতে হিসাব করা সার্বিক মূল্যবৃদ্ধির এই হার মে মাসে নেমে গিয়েছে শূন্যের চেয়ে ২.৩৬% নীচে, যার অর্থ দাম বাড়েনি, খাতায়-কলমে তা কমেছে। রয়টার্সের সমীক্ষায় অবশ্য দর ২.৫০% কমার পূর্বাভাস ছিল। মে মাসে শুধু জ্বালানির দরই কমেছে ১০.৫১%। শিল্পে উৎপন্ন সামগ্রীর দর কমেছে ০.৬৪%। শাক-সব্জি সস্তা হয়েছে ৫.৫%, শুধু আলুর দরই পড়েছে ৫২%। তবে সাধারণ ভাবে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৩.৮%।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকেই কমছে দাম। এপ্রিলে তা ছিল ২.৬৫%। তবে গত বছর মে মাসে সার্বিক মূল্যবৃদ্ধি ছিল ৬.১৮%। পাশাপাশি, খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি মে মাসে ফের কিছুটা বেড়ে ৫% ছাড়িয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধি বাগে আসায় শিল্পে প্রাণ ফেরানোর লক্ষ্যে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে সুদ কমানো অব্যাহত রাখতে আর্জি জানিয়েছে শিল্পমহল। বণিকসভা সিআইআই তার বিবৃতিতে বলেছে, জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলে তাদের আশা। এ ব্যাপারে কেন্দ্র যে-সব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা কাজে দিয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বেঁধে দেওয়া সীমার মধ্যেই থাকবে মূল্যবৃদ্ধি। ফলে সদ্য ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করা শিল্পোৎপাদন বাড়ানোয় উৎসাহ দিতে শীর্ষ ব্যাঙ্কের উচিত দফায় দফায় আরও সুদ কমানো। ফিকি-ও মনে করছে মূল্যবৃদ্ধির হার এখনই বাড়বে না। কারণ, ঘাটতি বর্ষার পূর্বাভাস থাকলেও তা মোকাবিলা করার প্রস্তুতি কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই নিয়েছে। প্রথম সারির আর এক বণিকসভা অ্যাসোচ্যামের মতে সার্বিক মূল্যবৃদ্ধি এক টানা কমতে থাকাটা জিনিসপত্রের দামে স্থিতি ফেরারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর জেরে সাধারণ ভাবে অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরবে।