Advertisement
E-Paper

মূলধন জোগাড়ের বিকল্প রাস্তা, কদর বাড়ছে মশলা বন্ডের

বিক্রি বিদেশে। কিন্তু দাম টাকায়। মোটা অঙ্কের মূলধন জোগাড়ের জন্য এ ধরনের ‘মশলা বন্ড’-এর দিকে ঝুঁকছে ইস্পাত ও পরিকাঠামো নির্মাণ সংস্থাগুলি। আগ্রহ দেখাচ্ছে ব্যাঙ্ক নয়, এমন বিভিন্ন আর্থিক সংস্থাও।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:০৯

বিক্রি বিদেশে। কিন্তু দাম টাকায়।

মোটা অঙ্কের মূলধন জোগাড়ের জন্য এ ধরনের ‘মশলা বন্ড’-এর দিকে ঝুঁকছে ইস্পাত ও পরিকাঠামো নির্মাণ সংস্থাগুলি। আগ্রহ দেখাচ্ছে ব্যাঙ্ক নয়, এমন বিভিন্ন আর্থিক সংস্থাও। এই ঋণপত্রকে ঘিরে উৎসাহ যে ভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী তিন বছরে এর মাধ্যমে ভারতীয় সংস্থাগুলি অন্তত ৫০০ কোটি ডলার (৩২ হাজার কোটি টাকা) তুলবে বলে মনে করছে মার্কিন উপদেষ্টা বহুজাতিক এসঅ্যান্ডপি।

মশলা বন্ডের (যা বিদেশে বিক্রি হওয়া রুপি বন্ড নামেও পরিচিত) বিশেষত্ব, বিদেশের শেয়ার বাজারেও তা টাকায় কেনা-বেচা করার সুবিধা। কারণ, তাতে ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হার ওঠা-নামা করার যে ঝুঁকি, তা কার্যত ঝেড়ে ফেলা যায়।

Advertisement

এখন ভারতে ব্যাঙ্কগুলির (বিশেষত রাষ্ট্রায়ত্ত) বড় সমস্যা অনুৎপাদক সম্পদের বোঝা। এবং সময়ে ধার শোধ দিতে না-পারার সেই তালিকায় উপরের দিকে ইস্পাত, পরিকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বিভিন্ন সংস্থা। যারা মোটা ধার নিয়ে খাবি খাচ্ছে তা ফেরত দিতে। ফলে এই সব সংস্থাকে ফের ঋণ দিতে চাইছে না অধিকাংশ ব্যাঙ্ক। অথচ প্রকল্প এগোতে মূলধন লাগে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কারণেই মশলা বন্ডের দিকে বেশি ঝুঁকছে ইস্পাত ও পরিকাঠামো নির্মাণ সংস্থাগুলি। তার উপর রুপি বন্ডের ক্ষেত্রে কর কেমন হবে, সম্প্রতি তা স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র। ফলে অনিশ্চয়তা কমেছে তা নিয়ে। এই অবস্থায় মশলা বন্ড মূলধন জোগাড়ের বিকল্প রাস্তা খুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটেন সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন যে, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও (অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা) বেশি মশলা বন্ড ছাড়বে ভারতীয় রেল। ইংল্যান্ড থেকে সিঙ্গাপুর— প্রায় সর্বত্র প্রবাসী ভারতীয় ও ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সমাবেশে বক্তৃতার সময় ওই রুপি বন্ডের পক্ষে সওয়াল করেছেন মোদী। ওই ঋণপত্র ছাড়ার জন্য প্রচার (রোড শো) শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনটিপিসি। অদূর ভবিষ্যতে এই বন্ড ছেড়ে টাকা তুলতে পারে পাওয়ার ফিনান্স কোম্পানি, রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন কর্পের মতো আরও বেশ কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। যদিও এ নিয়ে তাড়াহুড়ো না-করে আগে চাহিদা খতিয়ে দেখতে চায় তারা।

হালফিলে এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও। যেমন, কিছু ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক বলছে, বিমানবন্দর তৈরির জন্য মূলধন জোগাড় করতে রুপি বন্ড ছাড়তে পারে জিএমআর ইনফ্রাস্ট্রাকচার। যদিও এ নিয়ে সরকারি ভাবে এখনও কিছু জানায়নি তারা। এই পথে পা ফেলতে পারে ইস্পাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী জেএসডব্লিউ গোষ্ঠী। শোনা যাচ্ছে, প্রায় ৭৫ কোটি ডলারের মশলা বন্ড বেচার পরিকল্পনা রয়েছে এইচডিএফসি-রও।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত জনপ্রিয় হতে কতগুলি শর্ত আগে পূরণ করতে হবে একে। মুডিজের মতে, লগ্নিকারীরা দেখতে চাইবেন, যারা এটি ছাড়ছে, ধারে-ভারে তারা কেমন? কত সহজে এবং কত দ্রুত বিদেশের মাটিতে তা ভাঙানো সম্ভব? হাতফেরতা বাজারে তা বিক্রিবাটার সুবিধা কতখানি? এবং মোটামুটি কী ধরনের রিটার্ন মিলছে? অনেকের মতে, প্রশ্নগুলির ইতিবাচক উত্তর পেলে মশলা বন্ড কেনার আগ্রহ দ্রুত বাড়বে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy