দু’জনেই কসবা থানায় কর্মরত। এক জন পদ মর্যাদায় উঁচু, সাব ইনস্পেক্টর। অন্য জন তাঁর অধীনস্থ, কনস্টেবল পদে কাজ করেন।

ওই সাব ইনস্পেক্টর কুণাল বারাইকের অভিযোগ, তাঁকে নিচু জাতের প্রতিনিধি বলে মাঝে মাঝেই কটাক্ষ করেন কনস্টেবল প্রবাল বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে তাঁকে অনেক ব্যঙ্গ-বিদ্রুপও শুনতে হয়েছে বহু বার। সহকর্মীর কাছ থেকে এমন জাতি বিদ্বেষমূলক কথাবার্তায় নিজেকে অপমানিত বোধ করেন ওই কুণালবাবু। শেষ পর্যন্ত তিনি ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এর বিচার চেয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, সাব ইনস্পেক্টর কুণাল বরাইক গত ২১ জুন কনস্টেবল প্রবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তফসিলি জাতি ও উপজাতি প্রতিরোধ আইনেও তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ, গত ১০ জুন কসবা থানার ভিতরেই কুণালের উদ্দেশ্যে অশ্লীল মন্তব্য করেন প্রবাল। তখন থানার অন্য সহকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, অপমানিত বোধ করে তিনি থানার পদস্থ পুলিশ অফিসারদের বিষয়টি জানান। কিন্তু তা নিয়ে খুব একটা হেলদোল দেখা যায়নি। থানার তরফেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: প্রেমের পরিণতি! গলায় গভীর ক্ষত, বাড়ির সামনে উদ্ধার যুবকের দেহ

এর পরেও তাঁকে একাধিক বার জাত তুলে মন্তব্য করা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, লালবাজারের নির্দেশে সহকারী উপনগরপালের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ছেলের ব্যাট, বাবার জুতো! কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও পিটিয়েছিলেন আধিকারিককে? ২৫ বছর আগের ছবি ভাইরাল

কিছু দিন আগেই রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ব বিদ্যালয়েও একই রকম ঘটনা ঘটেছিল। সেখানকার শিক্ষক এবং অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তারই প্রতিবাদে কয়েক জন অধ্যাপক পদত্যাগও করেন। শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আসরে নামতে হয়। এ বার পুলিশ মহলের অন্দরেই এমন ঘটনা ঘটায়, স্তম্ভিত সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।